সৃজনশীলতা বলতে এমন ধারণাকে বোঝায়, যেখানে কিছু বিষয়গত মান থাকে। একটি সৃষ্টির যে কোনো প্রদত্ত কাজের পেছনে গুণগত প্রেরণা থাকে। একটা দেশের ভবিষ্যত্ নির্ভর করে, বর্তমানে যারা শিক্ষিত হতে ব্যস্ত তাদের ওপর। পরবর্তী সময়ে তারাই হবেন দেশের কর্ণধার। দেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা কাজে তাদের অবদান থাকবে শতভাগ।
আমাদের দেশেও সৃজনশীল পড়াশোনার প্রচলন শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকে। এ পদ্ধতিতে পড়াশোনা নিয়ে নানান রকম তর্কবিতর্ক চলছে। আমরা কি এ পদ্ধতিতে পড়াশোনা করছে যারা তারা কতটুকু নিতে পারছে তা ভেবে দেখেছি?
বর্তমানে আমরা দেখছি যে, ছোট ছোট বাচ্চাগুলো প্রতিটা বিষয়ের বইসহ সেই বিষয়ের বইয়ের সঙ্গে তিনটা করে খাতা যখন ব্যাগে নেয়, সেই সকালে সন্তানটা বের হবে, তার জন্য টিফিন আর পানি যখন ব্যাগে দিই, তখন তার ভারটা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে। সত্যিই আমি হতভম্ব হয়ে যাই, ব্যাগের ভারটা যেন অনেক না বলা কথা বলে দেয় । কষ্ট হয় এবং ঐ ভারটা আমার বিবেকে গিয়ে লাগে। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড তবে এ ব্যাগভর্তি শিক্ষা অর্জনের উপকরণ তো সেই মেরুদণ্ডকেই বাঁকা করে দেবে। আমি না হয় সেই যুগে পড়াশোনা করে কিছুই হতে পারিনি। শুধুই সংসার করি। কিন্তু এখন যারা শীর্ষস্থানে আছেন দেশের তারাও তো সেই যুগেরই শিক্ষিত সমাজ।
দেশকে ডিজিটাল করা হয়েছে ৪জি ইন্টারনেট আমরা চালাচ্ছি, সেই দেশেই আবার সৃজনশীল পড়াশোনা করছে আমাদের সন্তানরা। তাদের বই থেকে তারা যা পাচ্ছে না নেটে গিয়েই তারা দুই বার ক্লিক করে পেয়ে যাচ্ছে এটাকেই বলে সৃজনশীল!
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা তাদের ক্লাস শেষ করে যখন Assignment রেডি করতে লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাত, পাঁচ/সাতটা বই দেখে তা তারা রেডি করত, এখন কি তারা তা করে? তারা বাসায় এসে নেটে সার্চ দিয়েই তা পেয়ে যাচ্ছে সহজে। রেডি করে ফেলছে তাদের যা প্রয়োজন। এ হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সৃজনশীল পড়াশোনার নমুনা! বর্তমানে পড়াশোনার পদ্ধতিটা এমন হয়েছে যে, শিক্ষক এবং কোচিং ছাড়া বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতে অনেক শিক্ষিত মা-বাবাও পারেন না। আমরা চাই শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে এমনভাবে সাজিয়ে নিতে, যাতে করে আমাদের সন্তানদের মেরুদণ্ডকে সত্যিকারের শিক্ষা দিয়ে সোজা রাখতে পারবে। শিক্ষাই যেন জাতির সত্যিকারের মেরুদণ্ড হয়।
আমাদের দেশ পরিচালনা করবে যে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম তাদের মেরুদণ্ডই যদি বাঁকা থাকে, তাহলে তো সম্ভব হবে না। শিক্ষাক্ষেত্রটা যদি সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল হয় তবেই আমরা পাব সুন্দর আগামী, জাতি এবং প্রাণের বাংলাদেশ।
n লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী,
নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
