চাকরির বাজারে চাহিদা বাড়ছে ফার্মাসিস্টদের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৪

মোজাহেদুল ইসলাম

 

একসময় বলা হতো ফার্মেসিতে পড়া মানেই বিদেশে পাড়ি জমানো। তখন এত এত ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল না। এখন আমাদের ওষুধের চাহিদার সবেচেয়ে বড় অংশ দেশেই উত্পাদন করা হয়। পাশাপাশি রপ্তানি করা হয় অনেক দেশে। তাই ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বহুসংখ্যক জনবলের দরকার হচ্ছে। কদর বাড়ছে ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের। 

এ চাকরির ভবিষ্যত্ :বাংলাদেশে উত্পাদিত ওষুধ বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে রপ্তানি করা হয়। তাই ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের বড় চাকরির বাজার ইন্ডাস্ট্রিতে। ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের কদর ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি। ফ্যাক্টরিতে ওষুধ উত্পাদন থেকে শুরু করে মান নিয়ন্ত্রণ, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টেও সম্পৃক্ত ফার্মাসিস্টরা। বিভিন্ন কোম্পানিভেদে বেতন সাধারণত ২৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। করপোরেট অফিসে ওষুধ বিপণনেও কাজ করেন ফার্মাসিস্টরা।

ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ক্ষেত্র:দেশে অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে। দেশের বাজার বড় হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকায় তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণের ওষুধ উত্পাদনের জন্য বহুসংখ্যক জনবলের দরকার হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগে ফার্মাসিস্টদের চাকরির সুযোগ আছে।

সরকারি চাকরির সুযোগ মূলত ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভালো বেতনে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওষুধশিল্প ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফার্মাসিস্ট, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি ম্যানেজার হিসেবে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ফার্মাসিস্টরা ওষুধ বা ফার্মেসি সংশ্লিষ্ট পণ্যের মানোন্নয়ন, মাননিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা, গবেষণার পাশাপাশি বিদেশে চাকরির সুযোগ আছে ফার্মাসিস্টদের।

ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টরা ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমাধারীরা ‘বি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট এবং ফার্মেসি সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশনধারীরা ‘সি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট

কোথায় পড়বেন :বাংলাদেশে ফার্মেসি বিষয়ে শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি পড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর ও মাস্টার ডিগ্রি রয়েছে। কেউ চাইলে পিএইচডি ডিগ্রিও করতে পারবেন। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে পড়ানো হয়।

এ ছাড়া অনেক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ফার্মেসিতে ডিপ্লোমা করা যাবে। আবার কেউ চাইলে এক বছরে ফার্মেসি সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন কোর্স করতে পারবেন। এর জন্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পাস হতে হবে। ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টরা ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমাধারীরা ‘বি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট এবং ফার্মেসি সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশনধারীরা ‘সি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট।

ভর্তি ও খরচাপাতি :পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে স্নাতকে ভর্তি হতে ‘ক’ ইউনিট কিংবা জীববিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদের সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ওপরও প্রশ্ন থাকে।

ফার্মেসি একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট এখানে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সমন্বয় রয়েছে। ব্যাচেলর পর্যায়ে ফার্মেসিতে যেমন ওষুধ উত্পাদন, বিপণন পড়ানো হয়, তেমনি ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি, অ্যানাটমিও পড়ানো হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নামমাত্র খরচ। প্রথম সারির কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যালেচর প্রগ্রামের খরচ সাড়ে ৮ থেকে ১৩ লাখের মতো। আবার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকায় বিফার্ম কোর্স করা যায়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার কোর্স চালু রয়েছে। খরচ পড়বে এক থেকে দুই লাখ টাকা।