কুমিল্লা জেলা শহরের বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন স্থানীয়ভাবে ‘টাউন হল’ নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৮৫ সাল। ১৯৩৩ ও ২০০২ সালে দু’দফায় সংস্কার হয়েছে টাউন হলটির। এখানে রয়েছে বাংলা ২৪ হাজার ও ইংরেজি ৬ হাজারসহ মোট ৩০ হাজার বই। সংরক্ষিত আছে ৬৩টি আলমারিতে। প্রতিদিন অসংখ্য পাঠক এখানে আসেন। এই টাউন হলকে কেন্দ্র করেই বিগত ১৩৫ বছর কুমিল্লার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। নিয়মিত বইমেলা হয়ে থাকে এখানে। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসে হাজার হাজার মানুষ। আড্ডা-অনুষ্ঠানেও প্রতিদিন ভিড় করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই টাউন হলে এসেছেন মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, জাতীয় কবি নজরুল, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ বিখ্যাত মনীষী। যে কোনো অনুষ্ঠান মানেই টাউন হল বা মাঠ। এর বামপাশে কুমিল্লা ক্লাব। ডানপাশে কুমিল্লা মিনিস্ট্র্রিয়াল ক্লাব। ভবনটি খুব সুন্দর কারুকার্য খচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সম্প্রতি একটি মহল শতবছরের ঐতিহ্যের ধারক-বাহক বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও গণপাঠাগারটি ভেঙে সেখানে আধুনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। নগরবাসী এই সিদ্ধান্তে হতবাক হলেও কেউ মুখ খুলছেন না।
কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, সংগীতজ্ঞ শচীন দেবের বাড়িটি সংস্কার করে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা যেই চক্রটির, সেই চক্রটিই কুমিল্লার ‘ব্রান্ড’ হিসেবে খ্যাত টাউন হলটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ভবনটির নকশা চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সভা করে প্রাথমিক অনুমোদনও নিয়েছে। ২০১৪ সালে কান্দিরপাড় এলাকায় শত বছরের পুরনো পূবালী ব্যাংক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কুমিল্লার সুধীজনদের অনেকেই মানববন্ধন করেন ভবনটি রক্ষার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ঐতিহ্যের প্রতীক টাউন হলটি নিয়ে নেই কারো ভাবনা। তাহলে কি হারিয়ে যাবে কালের সাক্ষী বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন—ভবনটির অস্তিত্ব?
জনৈক নাগরিক
