যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব এখনো আগের মতোই রয়েছে। সেখানে বিয়ের কার্ড থেকে শুরু করে কবর কোথাও থাকে না নারীদের নাম। মেয়েদের পরিচয় হিসেবে লেখা হয় কারো মা, কারো মেয়ে কিংবা কারো স্ত্রী হিসেবে। এমনই একটি নিমন্ত্রণপত্র পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন হেরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, ২৮ বছর বয়সি লালে ওসমানী। তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নটা উত্থাপন করে #হোয়্যারইজমাইনেম# হ্যাশট্যাগ করেন লালে ওসমানী।
তিন বছর আগে ওসমানী দাবি জানিয়েছিলেন—জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার পাশাপাশি থাকতে হবে মায়ের নামও। ওসমানীর তোলা সেই প্রস্তাবের পক্ষেই রায় দিয়েছে সরকার। দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে আফগান জাতীয়পত্রে বাবার পাশাপাশি থাকবে মায়ের নামও। গত সপ্তাহে জনগণনা আইন সংশোধন করেছে তারা। যদিও এখনো পার্লামেন্টে নতুন আইন পাশ হওয়া বাকি। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গ্রীষ্মের ছুটির শেষে পার্লামেন্ট চালু হলে সেটাও হয়ে যাবে।
নারীদের সমস্যা দেশটিতে এখনো প্রবল। আফগান পার্লামেন্টের ২৫০ সদস্যের মধ্যে ৬৮ জন নারী। কিন্তু এদের অনেকেই এখনো সন্তানের ‘অভিভাবক’ হতে পারেননি। স্বামীর অনুপস্থিতিতে ব্যাংক থেকে টাকা পর্যন্ত তুলতে পারেন না! মূলত লালে ওসমানীর তোলা সেই প্রশ্নের সঙ্গে দেশ বিদেশের মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করাতেই এই পরিবর্তন আসতে চলেছে আফগানিস্তানে। —আনন্দবাজার
