চৌগাছায় দু’টি দপ্তরের কর্মকর্তারা অফিস না করায় হয়রানির শিকার জনগণ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০২

যশোরের চৌগাছা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমতো অফিসে না আসার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছেন অফিস দু’টির কর্তা ব্যক্তিরা নানা অজুহাতে সপ্তাহে ৩-৪ দিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে ব্যক্তিগত কাজে থাকেন। ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজন সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা সরেজমিনে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের দু’টি দপ্তর পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায় মেইন গেট তালাবদ্ধ। তখন সকাল ৯ টা ১৫ মিনিট। গেটের সামনে উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের ফিরোজা বেগম নামের একজন নারী একটি অসুস্থ ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আরও ৫ মিনিট পরে অফিসের ল্যাব টেকনিশিয়ান নওশাদ আলীকে আসতে দেখা যায়। তিনি অফিসের ল্যাব টেকনিশিয়ান পরিচয় দিয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানতে পেরে অফিসে বসে কথা বলার আহ্বান করেন তিনি। 

উপজেলার এই দপ্তরের প্রধান প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী কখন আসবেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্যারের  মিটিং আছে। আজ আসবেন না।’ অন্যরা কখন আসবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়ত একটু দেরি হচ্ছে। তবে ৯ টা ৩০ পর্যন্ত অফিসের অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।’

আরও পড়ুন: কাঁচা পাট রফতানি বন্ধের অনুরোধ বিজেএমএ ও বিজেএসএ'র

একইভাবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসেও তালাবদ্ধ ছিল। সকাল ৯ টা ২০ মিনিটে দপ্তরের অফিস সহায়ক আব্দুল হাফিজকে অফিসের তালা খুলতে দেখা যায়। সংবাদকর্মী জানতে পেরে তিনি অফিসে প্রবেশ করেই অপ্যায়ন করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে অফিসে প্রবেশ করেন এই দপ্তরের প্রধান উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকরামুল কবির। তিনি বলেন, ‘ভাই আজ একটু দেরি হয়েছে। অফিসের জনবল ৭ জন।’ অন্যরা কখন আসবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্যরা ফিল্ডে আছেন।’ 

একটি বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কম্পিউটার অপারেটর এখনো আসেননি ‘ কম্পিউটার অপারেটরও কি ফিল্ডে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, উনি এখনি আসবেন।’ তবে সকাল ১০ টা পর্যন্ত অফিসে কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষচন্দ্র গোস্বামী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কে কবে, কখন আফিসে আসছেন আপনারা কি দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখেন? আমি যেদিন সকাল ৯ টার আগে যাই সেদিন তো দেখেন না। আমি আজ মিটিংয়ে আছি। সরকারি নির্দেশনা আছে কর্মস্থলে যোগদান করে মিটিংয়ে উপস্থিত হতে হবে।’ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ রকম কোনো কিছু আমার জানা নেই ‘ 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘প্রত্যেকটি দপ্তরের দায়িত্ব সেই দপ্তরের প্রধানের। অফিস টাইমে সরকারি কোন অফিস তালাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। এমনটি হয়ে থাকলে আগামী সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।’

ইত্তেফাক/এএএম