সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে শেরেবাংলায় গ্রিন জোন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৫

করোনাকালীন সময়ে কয়েক মাস মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল। গত জুলাইয়ে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরুর পর এক নম্বর গেটে নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়। গতকাল শুধু নিরাপত্তাকর্মী নয়, বিসিবির সিকিউরিটি কমিটির সদস্যদেরও দেখা গেল শেরেবাংলা প্রাঙ্গণে।

সবার গলায় অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড রয়েছে। দেখে মনে হতে পারে আন্তর্জাতিক কোনো সিরিজ চলছে। এ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের আগমন মূলত করোনার কারণে। এক জন ট্রেনার করোনা পজিটিভ ও গ্রাউন্ডসম্যানদের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় টানা পাঁচ দিন মিরপুরে বন্ধ ছিল ক্রিকেটারদের অনুশীলন। গতকাল আবারও শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলন।

বিরতির মধ্যেই করোনার সতর্কতা হিসেবে শেরেবাংলা প্রাঙ্গণে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিসিবি। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড যার একটি অংশ।

সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গৃহীত পদক্ষেপের একটি হলো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণকে দুই ভাগে ভাগ করা। গ্রিন জোন, নন গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়েছে গোটা ভেন্যুকে। গতকাল বিসিবি একাডেমি ভবনের সামনে দেখা গেল গ্রিন জোন লেখা পোস্টার, একাডেমি মাঠে যাওয়ার রাস্তার সামনেও সবুজ রঙের গ্রিন জোন লেখা চোখে পড়েছে।

গতকাল জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা আসলে প্রবেশটাকে সীমাবদ্ধ করতে চাচ্ছি। আমরা স্টেডিয়ামটাকে গ্রিন জোন আর নন গ্রিন জোনে ভাগ করেছি। গ্রিন জোন মানে এখানে মূলত খেলা সম্পর্কিত লোক যেতে পারবে। যেমন ক্রিকেটার, ফিজিও, ট্রেনার, ডাক্তার যাদের খেলার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। আগে যেটা হতো যার ইচ্ছা যেখানে-সেখানে চলে যাচ্ছে। এখন আমরা এটা বন্ধ করেছি। বন্ধ করাতে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ ভাগ লোক কমে গেছে। তাতে সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য সহজ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবার জন্য পাশ দিছি এখন। সবার গলায় দেখবেন পাশ, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড। গ্রিন জোনের পাশ দিয়ে শুধু গ্রিন জোনেই যেতে পারবে। নন গ্রিন জোনের মানুষ গ্রিন জোনে ঢুকবে না। এটা শুরু করেছি। মানুষের বুঝতেও সময় লাগবে। এটা পুরোপুরি কঠোর প্রয়োগ হবে দল যখন হোটেলে উঠে যাবে। তখন বাড়তি কোনো লোক আসতে পারবে না।’

করোনার সতর্কতা হিসেবে এখন তামিম-মুশফিকরা অনুশীলনের আগে-পরে ভাগ হয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করছেন। মিরপুরে অনুশীলন করা ২৭ ক্রিকেটার তিনটি ড্রেসিংরুমে ভাগ হয়ে অবস্থান করছেন। তাতে সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও কমে আসছে। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক জানিয়েছেন, ‘এখন তিনটা ড্রেসিংরুম ব্যবহার করছে ক্রিকেটাররা। চারটা ড্রেসিংরুম আছে। এর মধ্যে তিনটাই ব্যবহার হচ্ছে।’