নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে -------- তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫৭

নারীর গৃহস্থালির সেবামূলক শ্রমের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ ও জিডিপিতে নারীর এই শ্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দেশের প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া গৃহস্থালির কাজগুলো পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে নারীদের ওপর কাজের চাপ কমাতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। তবে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান চিন্তাধারায় পরিবর্তন না এনে আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হলে তা বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে জনমত গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোও সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গতকাল বুধবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইন সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।

সংলাপে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। তিনি বলেন, ‘সেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সাংবাদিকদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিতকরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমামসহ শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের মাধ্যমে নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।’

প্যানেল আলোচক দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নই প্রধান বিষয়, যার জন্য সামাজিক বাধা মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য সমাজকে প্রস্তুত করতে হবে।’ অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের উন্নতি নারীর ক্ষমতায়নের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।’

সভাপতির বক্তব্যে জাফর ওয়াজেদ বলেন, ‘নারীরা নানাভাবে নিপীড়িত হচ্ছেন, অবমাননার শিকার হচ্ছেন। এই একুশ শতকে এসেও নারীরা কাজের স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীর কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।’

সংলাপে স্বাগত ‘বক্তব্য দেন পিআইবি পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইলিয়াস ভূইয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের সাউথ এশিয়া অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. হেলাল উদ্দিন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সংবাদের বার্তা সম্পাদক কাজী রফিক, দৈনিক সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কমলেশ রায়, দৈনিক দেশ রূপান্তরের যুগ্ম সম্পাদক গাজী নাসিরউদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক পলাশ আহসান, বাংলাদেশ পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক শিহাবুর রহমান শিহাব, চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুজ্জামান, এটিএন বাংলার প্রধান বার্তা সম্পাদক মানস ঘোষ, দৈনিক জনকণ্ঠের সিটি এডিটর কাওসার রহমান, বাংলাভিশনের সিনিয়র বার্তা সম্পাদক রুহুল আমিন রুশদ, সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীর নূর প্রমুখ।