একাদশ মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বইছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে নবীন-প্রবীণ দেড় ডজন হেভিওয়েট প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি। তাদের লক্ষ একটাই যে করেই হোক দলীয় মনোনয়ন চায়।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি খুব একটা সক্রিয় না থাকায় এখানে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগই লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মন জয় করার জন্য নানাভাবে তদবির করে যাচ্ছেন। তারা দিন রাত সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও নিজ নিজ দলের তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিচ্ছেন এলাকা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১১৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৩ এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৭৯৮ জন। ১১৩টি কেন্দ্রে মোট কক্ষ ৬৬৬টি। এর মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৬২৪টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৪২টি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে।প্রথম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. মিয়াজ উদ্দিন। ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বাতিল হওয়ায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়নি। ২০০৯ সালে পুনরায় উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের ৫ বারের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু। ২০১৪ সালেও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অদ্যবর্তী পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ২০১৯ সালের মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে মির্জাপুরে রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেন। এখানে নবীন আর প্রবীণদের মনোয়নের লড়াই হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি। ৭ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টুকে ঠেকাতে একজন শিল্পপতিসহ আওয়ামী লীগের নবীন ও গ্রহনযোগ্য এক ডজন হেভিওয়েট নেতা মনোয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
দিন রাত তারা এলাকায় উঠান বৈঠক, পথসভা, খেলাধূলা ও মিলাদ-মাহফিল অতিথি এবং গণসংযোগ করে ভোটার ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এলাকার ভোটার ও সাধারণ সচেতন মহল একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও গ্রহনযোগ্য চেয়ারম্যান প্রার্থীকে এলাকার উন্নয়নের জন্য দলীয় মনোনয়ন চায়।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলা নির্বাচনে যারা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা হলেন, মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ৭ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও হংকং শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিল্পপতি ও সমাজ সেবক মো. আবুল কালাম আজাদ লিটন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ ও ওয়ার্শি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মীর্জা আব্দুল্লাহেল শাফী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী মো. আবু রায়হান সিদ্দিকী, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শামীম আল মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাজী মো. আবুল হোসেন এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফিরোজ হায়দার খান।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও মির্জাপুর সরকারী কলেজের সাবেক জিএস মো. সেলিম সিকদার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজাহারুল ইসলাম সিকদার আজাহার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মির্জাপুর সরকারী কলেজের সাবেক এজিএস দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ফরিদ, মির্জাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীর্জা শামীমা আক্তার শিফা এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির মহিলা দলের সহ সভাপতি এবং মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির মহিলা দলের সভানেত্রী মিসেস খালেদা সিদ্দিকা স্বপ্না।
এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। পরপর ৭ বার চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। আশা করছি এই নির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়ন পাবো এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবো।’
আরও পড়ুনঃ গজারিয়ায় গাড়িচাপায় ছিনতাইকারি নিহত
মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আবুল কালাম আজাদ লিটন, মীর্জা আব্দুল্লাহেল শাফী ও তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজিব বলেন, ‘মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। প্রবীণদের চেয়ে নবীনরা অনেক এগিয়ে। তাই এলাকার উন্নয়ন ও দলের স্বার্থে পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুনদের মনোনয়ন দেবেন।’
ইত্তেফাক/নূহু
