সহস্রাধিক চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ।্ব্র

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪২

সহস্রাধিক চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উদ্বেগজনিত কারণে চীন থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের  প্রবেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ফলেই এখন এ ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার আওতায় ২০২০ সালের ৮ মে ১ হাজারের বেশি চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়। সূত্র বিবিসি ও রয়টার্স

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শাদ উলফ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গবেষণা পাচারের আশঙ্কায় আগে থেকেই চীনের মিলিটারি ফিউশন স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে যুক্ত গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণা চুরিসহ অনৈতিক বাণিজ্যের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে বেইজিং তার অপব্যবহার করছে। চীনের অনৈতিকতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে বেইজিংয়ের বর্বর আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বন্দি উইঘুরদের দিয়ে বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উত্পাদনের অভিযোগে সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত এই পণ্য তালিকায় থাকছে তুলা ও টমেটো থেকে উত্পাদিত পণ্য। চীনের শুল্কমুক্ত রফতানি তালিকার অন্যতম প্রধান পণ্য এই দুটি।

ওয়াশিংটন ও বেইজিং-এর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈরিতার পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া লাখ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে। মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে এখন চীন থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সন্দেহভাজন প্রযুক্তি পাচারকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরার সময় তাদের ওপর শ্যেন দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, তারা এখন প্রতি ১০ ঘণ্টায় এমন অন্তত একটি সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা খুঁজে পাচ্ছেন যার সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চীনা সরকারি বৃত্তি নিয়ে গবেষণা করতে আসা ১৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি মাঝপথে বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছেন চীনা শিক্ষার্থী কিথ ঝাং (ছদ্মনাম)। ওয়াশিংটনে বিবিসির চীনা সার্ভিসের সংবাদদাতা ঝাও ইন ফেংয়ের কাছে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঝাং। হঠাত্ বোর্ডিং ডেস্কে তলব করা হলে তিনি ভেবেছিলেন রুটিন নিরাপত্তার জন্যই ডাকা হচ্ছে তাকে। কিন্তু গিয়ে দেখলেন দুজন সশস্ত্র সীমান্ত এজেন্ট পুলিশ তার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি। কিথ ঝাং বলেন, ‘তারা আমাকে এমনভাবে জেরা শুরু করল যেন আমি প্রযুক্তি চুরি করতেই আমেরিকাতে পড়তে এসেছিলাম।’

২৬ বছরের পিএইচডি ছাত্র ঝাং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে এক বছরের জন্য একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার আগে দুই ঘণ্টা ধরে তাকে যেভাবে জেরার মুখোমুখি হতে হয় তা স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।

মার্কিন পুলিশ বের করার চেষ্টা করছিল তার সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। শুধু ঝাং নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ লাখের মতো চীনা শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তাদের অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে।

জুলাইয়ে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার সময় মার্কিন সরকার বলেছিল ওই কনস্যুলেটটি গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।