ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বেশ কয়েকটি গবেষণা নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদের বিষয়ে একাডেমিক অপরাধের শাস্তি সুপারিশ করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কমিটি ঐ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে মর্মে সিন্ডিকেটের সভায় রিপোর্ট পেশ হয়েছে। সভায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু কাদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে, এটা নির্ধারণ হয়নি। এটা নির্ধারণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, নিয়ম-নীতি অনুযায়ীই সব কিছু হবে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ নামক আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়। তবে তা ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
