হঠাত্ পরিচিত কোলাহলে এফডিসি!

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩৮

তানভীর তারেক

করোনাকালীন এই সংকটে নতুন কোনো সিনেমার শুটিংয়ের খবর খুব একটা নেই বললেই চলে। বেকার শিল্পীদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। বিচ্ছিন্নভাবে দুই একটি ছবির শুটিংয়ের খবরের পাশে হঠাত্ করেই এফডিসি পাড়া সরগরম দেখা গেল। এর কারনটা শাকিব খান। ছবির নাম নবাব এলএলবি। অনেকদিন ধরেই এই ছবির কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি ছবিটি শুরু আগেই প্রযোজনা সংস্থাটি করোনাদূর্যোগে অসহায়দের জন্য সাহায্য সহযোগিতারও উদ্যোগ নিয়েছে। অতঃপর নিউ নরমাল সময়েই শুরু হলো শুটিং।

কাস্টমাইজ বাইকে চেপে নতুন লুকে শাকিব খানের ছবিগুলো নেটিজানদের কাছে ঘোরাফেরা করছে। এদিকে শাকিব খানের ছবির ক্ষেত্রে বাড়তি আগ্রহ সকল পরিবেশকদেরই থাকে। কিন্তু সেই পরিবেশকদের কাছেও আজ সিনেমা হল নেই। হল থাকলেও সেটি কতটুকু সচল হবে তার একটা বড় শংকা ঘুরপাক খাচ্ছে! সেদিক দিয়ে নতুন করে ছবিপাড়ায় আশা জাগাতে পারে ইন্ডাষ্ট্রিকে তারকা সমৃদ্ধ ছবি। কিন্তু এখনও অব্দি যেন বাংলা সিনেমা মানেই শাকিব খানই ভরসা। তাই গত দুদিন এফডিসিতে শাকিব খান সকাল ৭ টায় এসেছেন এই খবরটিই অনেকের কাছে চমকের মতো লাগছে। নিয়মের বাইরে গোটা ইন্ডাষ্ট্রি চলতে চলতে যখন খাঁ খাঁ মরুভূমির দশা। তখন নিয়ম অনুযায়ী কোনো সুপারস্টারের সময়মতো সেটে আশার খবরটিও আনন্দিত করছে! চলচ্চিত্র শিল্প ঠিক কোথায়, কতটা অসহায়ত্বে পড়লে এমনটা সম্ভব তা খুব সহজেই অনুমেয়!

কারণ গত দুইমাস ধরে ঘুরে ফিরে নানান বিতর্ক আর বয়কটের খবরেই সরগরম ছিল এফডিসি পাড়া। এমনকি এফডিসির ফ্লোর ভাঙা নিয়েও ছিল একরকম মন খারাপের আলোচনা। সেখানে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের একমাত্র এই ‘তুরুপের তাস’ শাকিব খানই পারে ইন্ডাষ্ট্রিকে নতুন মোটিভে ফেরাতে, এমন প্রত্যাশাটাও খুব স্বাভাবিক।

অন্যদিকে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেও ছবি নির্মানের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হবেন শাকিব খান। তবে সিনেমা হল বন্ধের খবরে যখন সকলেরই নানান আশংকার ভারী বাতাস বইছে। সেখানে একমাত্র ভাল মানের ছবিই পারে বাণিজ্যিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে। অথচ প্রযোজকদের সাংগঠনিক জটিলতা শেষ হবার পরও কোনো সমাধান এলো না। অর্থাত্ প্রযোজকেরা টকশো বা বিভিন্ন সভা সেমিনারে যতটা সরব। সিনেমায় লগ্নি, ঝুঁকি নিয়ে অগ্রসর হওয়া বা ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে একেবারেই যেন উল্টোরথে।

সকলের এটা মনে রাখাও প্রয়োজন যে, গত দুটি ছবি শাকিব খান থাকা স্বত্ত্বেও দর্শক টানতে পারেনি। তাই সুপারস্টারকে দেখতেই যে শুধু হলে যাবেন দর্শক সেই তত্ত্বটিও ভুল প্রমাণিত হচ্ছে ক্রমশ। প্রয়োজন এখন ভাল গল্প, সঠিক প্রচার ও সঠিক বিপনণ। সেখানে মেধাবী নির্মাতা, ভালো মৌলিক গল্পে এবারের শাকিব খান কতটা নিজের করে নিতে পারবেন সেটিও একটা বড় বিষয়। আর হল নেই বলে যে হা-হুতাশ চলছে দীর্ঘকাল; তা যে অমূলক, সেটি এরইমধ্যে বহির্বিশ্বের সিনেমা ব্যবসায়ীরা প্রমাণ করে দিয়েছে। এখন দেরিতে হলেও যদি দেশীয় প্রযোজকরা সেটি বুঝে অগ্রসর হন। তবেই সুদিন আসতে পারে।