লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সমঝোতায় পৌঁছেছে চীন ও ভারত। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোতে বৈঠকে বসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৈঠকের পর প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্তে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পাঁচটি বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এগুলোর মধ্যে আছে সীমান্তে সম্মুখসারির সেনা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সব চুক্তি ও প্রোটোকল মেনে চলা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করা এবং উত্তেজনা তৈরি করে এমন সব কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা। মস্কোতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠকে বসেন ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ বৈঠকের উদ্যোগ নেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গতকাল শুক্রবার বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কোনো দেশেরই কাম্য নয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের উচিত সেনাদের দ্রুত নিষ্ক্রিয় করে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, চীন ও ভারত উভয়েরই সামরিক পর্যায়ে বৈঠকের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের সেনাঘাঁটির মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
এদিকে গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ই ওই বৈঠকে ‘অবিলম্বে গুলি চালানো ও দুপক্ষের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন হয় এমন উসকানিমূলক বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি’ বলে জয়শঙ্করকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সীমান্তে ভারতের মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জামাদি সরানো উচিত। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।
প্রসঙ্গত, হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলে লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে গত ১৫ জুন চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে খালি হাতে মারামারিতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীন তাদের সেনাদের হতাহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ওই সংঘাতের পর উভয় দেশ এলএসিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দফা মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ভারত ও চীন।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ভারত ও চীন একবারই যুদ্ধে জড়িয়েছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে চীনা সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস জানায়, ভারতের সঙ্গে যে কোনো আলোচনায় ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি’ নিয়ে কথা বলা উচিত। কূটনৈতিক বৈঠক ব্যর্থ হলে চীনকে অবশ্যই সামরিক পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে হবে। চীনের সম্মুখভাগের সেনারা যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয় এবং যে কোনো সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে গতকাল ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য ভারতের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং চীনের যে কোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।
