দ্রুত গলছে দক্ষিণ মেরুর হিমবাহ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৩

দক্ষিণ মেরুতে সাধারণত গ্রীষ্মে বরফ গলে; কিন্তু গত ১ হাজার বছরের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বরফ গলার হার অনেক বেশি। ৬০০ বছর আগে যতটা বরফ গলতো সেই তুলনায় গত ৫০ বছরে বরফ গলার তীব্রতা বেড়েছে ১০ গুণ। অথচ ২০০০ সাল নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কিন্তু আগের মতো বাড়েনি। এমন বাস্তবতায় গবেষকরা বেশ ধন্দের মধ্যে পড়ে যান। দক্ষিণ মেরুর বরফ গলার হার বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকরা আরো চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। সর্বশেষ গবেষণা থেকে গবেষকরা জানিয়েছেন, সাগরের তলদেশের গরম পানির সে াত এই হিমবাহের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণেই বেড়ে চলেছে বরফ গলার তীব্রতা। ‘ডুমসডে হিমবাহ’ নামে পরিচিত প্রকাণ্ড থাওয়েট হিমবাহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তথ্যে তারা একথা বলছেন।

দ্য ক্রিয়োসফেরে জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—সাগরের তলদেশের গভীরতা আগে যতটা ভাবা হতো প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি। অনেক বেশি গভীর হওয়ায় সমুদ্রের গরম পানির সে াত এসব হিমবাহের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। আর এই গরম পানি প্রবাহের কারণে গলছে হিমবাহ। তবে দক্ষিণ মেরুর হিমবাহ গলার জন্য একমাত্র গরম পানির সে াতই একমাত্র কারণ নয়। এর বাইরে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও অন্যতম বড় কারণ।

গবেষকরা বলছেন, গত তিন দশকেই থাওয়েট হিমবাহ এই পরিমাণ গলেছে যার আয়তন পুরো গ্রেট বিটেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সমান। তারা আশঙ্কা করছেন, থাওয়েট হিমবাহের বরফ পুরোপুরি গলে গেলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২৫ ইঞ্চি (৬৪ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রের গড় উচ্চতা নিকট অতীতের চেয়ে শতকরা চার ভাগ বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকাতে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তার যদি সবটা গলে যায় তাহলে বিশ্বের সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১১ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিমবাহ হচ্ছে থাওয়েট হিমবাহ। গত কয়েক শতকে থাওয়েট হিমবাহের পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্য হারে চোখে পড়েছে বিজ্ঞানীদের। থাওয়েট হিমবাহের ২ হাজার ৬০০ ফুট নিচের তথ্যও জোগাড় করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে ভবিষ্যতে থাওয়েটের নিচের বরফখণ্ড কী রকম আচরণ করবে সে সম্পর্কে আগাম কোনো ধারণা দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।

এমন দুর্গম অঞ্চলে হিমবাহের নিচের পরিবর্তন সম্পর্কে সেইভাবে বিস্তর কোনো জ্ঞান নেই বিজ্ঞানীদের। তবে নতুন প্রাপ্ত এই তথ্য তাদের ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য অনেক বেশি সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় উষ্ণায়ন রোধে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। —সিএনএন