নওগাঁর পত্নীতলায় এলজিইডির আওতাধীন কাঞ্চন মাজার সড়কটি বিভিন্ন অংশে দেবে যাওয়ার কারণে চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহন। রাস্তার ক্ষতির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দায়ী করছেন বালুভর্তি ট্রাকের অবাধ চলাচলকে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, একমাস আগেও উপজেলার কাঞ্চন মাজার সড়কটি ভালো ছিল। কিন্তু আত্রাই নদী থেকে বালু তুলে ট্রাকে করে অবাধে পরিবহন করার কারণে সড়কে অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গ্রামবাসী ছাড়াও অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন হযরত জহর উদ্দিন চিসতী (রহঃ) মাজার জিয়ারত করতে। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার মাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় ভ্যান, ভটভটি, চার্জার, মাইক্রোবাস যোগে মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।
কাঞ্চন ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অটোচার্জার (টমটম) চালক রাসেল বলেন, রাস্তার কারণে গত এক মাসে চার্জারের চাকা দুই বার খুলে গেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশ কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী গ্রামীণ এসব সড়ক দিয়ে বালু ভর্তি ট্রাক আনা-নেওয়া করেন। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিটসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বালু ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, ঐ রাস্তা দিয়ে এখন আর কোনো বালু বোঝাই ট্রাক চলাচল করে না। রাস্তাটি এভাবে দেবে যাবে আগে ভাবিনি। মানবিক দিক বিবেচনা করেই ট্রাক চলাচল বন্ধ করেছি।
পত্নীতলা উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে প্রায় ১১ লাখ টাকায় কাঞ্চন মাজার সড়ক রিপিয়ারিং করে। সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে আমি হতবাক। সুন্দর সড়কটি এখন বড় বড় খানা-খন্দে ভরপুর। সড়ক নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগতব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন সরকার জানান, গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে আর বালুবোঝাই ট্রাক চলতে দেওয়া হবে না। তারপরও কোনো বালু ব্যবসায়ী বালু পরিবহন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
