পর্যটনে সম্ভাবনাময় নাটোরের চিনিডািঙ্গার বিল। নাটোরের চলনবিল হিসেবে সমধিক পরিচিত। বিলের ঘন কালো পানিতে ফুটে থাকা রাশি রাশি পদ্ম ফুল দর্শনার্থীদের মোহিত করে। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যানবাহনে বনপাড়া গোলচত্বরে আসা যায়। সেখান থেকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার এগোলেই পারকোল বাজার। বাজার থেকে ডান দিকে এক কিলোমিটার পথ এগোলেই চিনিডাঙ্গার বিল। পথের দুই পাশ জুড়ে মত্স্যজীবীদের অবস্থান-জিয়নপাড়া। এই মত্স্যজীবীরাই বিলের প্রাণ।
জিয়নপাড়ার শেষ প্রান্তে কাশফুলের বনে রাখা আছে অসংখ্য নৌকা। স্রোতহীন বিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অসুবিধা হওয়ার দরুন শুধু বৈঠা দিয়ে নিঃশব্দ বয়ে চলা এসব নৌকা শতভাগ পরিবেশবান্ধব। আছে পক্ষীকুলের আশ্রয় ও খাদ্য নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের নামফলক সংবলিত আশ্রয়কেন্দ্র। বৃষ্টির দিনে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া এই ভবনই হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের আশ্রয়স্থল। অন্তহীন বিলের কালো পানিতে গোলাপি রঙের রাশি রাশি পদ্ম। শরতের শুরুতে পদ্মগুলো ফুটতে শুরু করেছে। পদ্মের বিশাল পাতাগুলোতে টলমল করছে পারদের মতো পানির দলা। পাতার পানির দলাগুলো ভারসাম্য হারিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিলের পানিতে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আগমনে জমজমাট থাকে পদ্ম বিল। কিছুদিন পরে পরিযায়ীসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমন ঘটবে। সন্ধ্যার পরে আকাশ জুড়ে জ্যোত্স্নার উপস্থিতি আর পাখিদের কলতানে বিল হয়ে ওঠে আরো মায়াবী। এই শরতে বিলে ভিড় করতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। তাদের জন্য আছে ভাড়াতে নৌকার ব্যবস্থা। কর্ম হারানোর বেদনায় থাকা এলাকার মত্স্যজীবীদের অনেকেই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে নৌকায় দর্শনার্থীদের বিল দেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন।
এই বিলের এক সময়কার সভাপতি আজিজুল ইসলাম, পারকোল মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের দাবি করেছেন, বিলের দিঘি অবৈধ রেকর্ডভুক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে দিঘি খনন করে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করতে হবে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান জানান, মত্স্যজীবীদের স্বার্থসংরক্ষণে নাটোরের চিনিডাঙ্গার বিলে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫ বিঘার একটি দিঘি পুনঃখনন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, চিনিডাঙ্গার বিলে মত্স্যজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সব রকমের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বিল ভ্রমণ সহজ ও সুন্দর করতে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।
