নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ দরকার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৪

ধরলা নদীর স্রোত যেন রাক্ষসী হয়ে উঠেছে। খরস্রোতার ধাক্কায় বেলে দোআঁশ মাটি ধসে জলে মিশে যাচ্ছে অনবরত। এ বছর শুধু কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা কত বসতবাড়িসহ আবাদি জমি বিলীন করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। উপর মহলের অনাগ্রহের কারণেই ভিটেমাটি হারিয়ে পরের জমি, আঙিনায়, রাস্তায় এমনকি ভাসমান জীবন যাপন করছে কয়েক হাজার মানুষ। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মতো সহায় না থাকায় তাদের ভবিষ্যত্ অন্ধকারে নিমজ্জিত। বিশাল নদী তীব্র স্রোত আর প্রত্যেক বছর প্রচুর ভাঙলেও সরকারি ব্যবস্থাপনার অভাবে সামনে কতটা ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে তা অনুমেয়। একদিকে করোনায় আয়-রোজগার বন্ধ, অন্যদিকে নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে পথে দিন কাটানো যেন ধরলার আশপাশের মানুষের নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে! দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে জমির গুরুত্ব যেভাবে বেড়েই চলেছে, সেভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লাখ লাখ একর জমি নদীতে চলে যাবে, দারিদ্র্যের হার বাড়বে, ভাসমান লোকজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে—যা দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করবে। অতিসত্বর ভাঙন রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বসতভিটাসহ আবাদি জমিগুলো বাঁচালে দেশের উত্পাদন বৃদ্ধিসহ মানুষের সমৃদ্ধি আসবে।

আবদুস সালাম

ফুলবাড়ি, কুড়িগ্রাম