পৌরসভা নির্বাচন
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
আসন্ন সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃস্থানীয় অনেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। অনেকে গণসংযোগ শুরু করেছেন বিভিন্ন কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বেশি তত্পর হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন নিতে জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ পেতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন তারা। অনেকে ঢাকায় অবস্থান করে দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে ঘরোয়া বৈঠকসহ সাংগঠনিক তত্পরতা বাড়িয়েছেন। ফলে দলের মধ্যে নানামুখী গ্রুপিং-লবিং দেখা যাচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র আখতার হোসেন বাদল, নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীমের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী এ কে এম রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক সাখাওয়াত্ হোসেন খোকন, সৈয়দপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা ফিরোজ। আলোচনায় আছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন। এসব নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজে এবং তার সমর্থকরা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব প্রচারণায় ভোটারদের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল ঘরোয়া বৈঠকে মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, সৈয়দপুর জেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান, বিএনপি নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রভাষক শওকত হায়াত্ শাহ ও বিএনপি নেতা শামসুল আলম। তবে এর বাইরেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েক জন নেতা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আসন্ন পৌর নির্বাচনে বড় দুই দল ছাড়াও অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় পার্টির জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্কার্স পার্টির রুহুল আলম মাস্টার। তবে ভোটের হাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেছেন। প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান কাউন্সিলরের পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর ও অন্যান্য নতুন মুখও রয়েছেন। ঐসব প্রার্থী আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমর্থন পেতে জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় ঐ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
