সব মানুষেরই ভুল হয়। ভুল করা তার স্বভাবজাত। তবে ভুল থেকে যিনি শিক্ষা নেন এবং নিজেকে সংশোধন করেন ও তওবা করেন তিনিই উত্তম। দুনিয়াবী কাজে ভুল হলে দুনিয়াতেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। কিন্তু ইবাদতে ভুল হলে দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছিত হতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে : ইবাদতের ভুল/ক্রটি সংশোধনের উপায় কী? কিভাবে বুঝব কী ভুল করেছি বা যা করছি তার কোনটি সঠিক। উত্তর অতি সহজ। আল্লাহ প্রদত্ত কোরআন ও রাসুল (স) এর সুন্নাহই (হাদিস) হচ্ছে আমাদের সঠিক পথের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এই বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। শুধু মানা ও পালনের ক্ষেত্রেই যত দ্বিমত। আজ আমরা কেবল সালাত বা নামাজের কথাই বলব। আমাদের মনে রাখতে হবে কোরআনকে অনুসরণ করে কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে তা রাসুল করীম (স)-এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানু তায়ালা মানব জাতিকে শিখিয়ে দিয়েছেন। মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন, যে ব্যক্তি রাসুল (স)-এর আনুগত্য করল সে কার্যত আল্লাহকেই অনুসরণ করল (সুরা নিসা: ৮০)। রাসুল (স) বলেছেন, সাল্লু কামা রাআইতুমুনি উসল্লি অর্থাত্ তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত/নামাজ পড়তে দেখ ঠিক সেইভাবে সালাত/নামাজ পড়। (সহিহ বুখারি) এটাতে পরিষ্কার যে, রাসুল (স) (প্রাকটিক্যালি) বাস্তবে সালাত আদায়ের পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। কাজেই রাসুল (স) এর শেখানো পদ্ধতির বাইরে অন্য কারো শেখানো পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা বর্জনীয়। ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো ইমামের ইশতিহাদ ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না ঐ ইশতিহাদ কোরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলবে। ইশতিহাদ প্রদানকারী সকল সম্মানীয় প্রসিদ্ধ ইমামগণই তা বলে গেছেন। সালাত আদায়ের বিষয়ে পবিত্র কুরআনুল কারিমের বর্ণনা নিম্নরূপ : যারা সালাতে বিনয়ী ও নম্র ( সুরা মু’মিনুন আয়াত-২) এবং যারা তাদের সালাতসমূহের খবর রাখে বা যত্নবান (সুরা মুমিনুন আয়াত-৯)। এই প্রসঙ্গেই আবুযর গিফারী (রা) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স) বলেন, সালাতের সময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর সর্বক্ষণ দৃষ্টি রাখেন যতক্ষণ না সালাতরত ব্যক্তি অন্য কোনো দিকে না তাকায়। যখন সে অন্যদিকে তাকায় তখন আল্লাহ তার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। (মুসনাদে আহম, নাসাঈ, আবু দাউদ)। নবী করিম (স) আনাসকে (রা) নির্দেশ দেন সেজদার জায়গায় দৃষ্টি নিবন্ধন রাখো এবং ডানে-বামে দৃষ্টি দিও না। সালাতের প্রাণ হচ্ছে বিনয়ী ও নম্র হওয়া। মনে রাখতে হবে- যার হাতে আমাদের প্রাণ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ রয়েছে তার সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়েছি। তাই অন্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুই কল্পনা করা যাবে না। অঙ্গ-প্রতঙ্গের স্থিরতা বজায় রাখতে হবে। তারতিলের সাথে তেলাওয়াত করে স্থিরভাবে রুকু, সেজদাহসহ সালাতের যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতে হবে। তাড়াহুড়া পরিহার করতে হবে। এটাই হচ্ছে সালাতে যত্নবান হওয়া।
মানুষ যে কাজই করুক সেটার পারিশ্রমিক চান। তবে সেই কাজ হতে হবে যথাযথ। নতুবা পারিশ্রমিক বা সম্মানীর আশা করা বৃথা। একইভাবে নামাজ সহিহ পদ্ধতিতে আদায় না করলে তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তার সুফলও পাওয়া যাবে না।
lলেখক : পরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা
