দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে সাতক্ষীরার সায়ের খাল

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৭

সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রাণ সায়ের খালের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। প্রাণ সায়েরের প্রাণ নিয়ে শুরু হয়েছে টানাটানি। খালটি এখন শহরবাসীর দুঃখ। দখল আর দূষণে খালটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পিএন হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণ সায়ের খাল খনন করেন। দেশের বিভিন্ন স্থান  থেকে সে সময় বড় বড় বাণিজ্যিক  নৌকা এসে ভিড় জমাতো এ খালে। এর ফলে সাতক্ষীরা শহর সমৃদ্ধশালী শহরে পরিণত হয়। আর ১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণের নামে খালের দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুুইসগেট নির্মাণ করে। এতে খালে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়। এরপর জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর খালটি খনন করা হয়। ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ১০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের টেন্ডার পায় ঢাকার মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই লোপাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

২০১৪ সালের ৬  সেপ্টেম্বর প্রাণ সায়ের খাল রক্ষা কমিটি মিছিল মিটিং আন্দোলন করে। ২০১৭ সালের ৩০ মে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষ প্রাণ সায়ের খালের প্রাণ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করে। জনতার দাবি ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের পয়লা মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে উদ্বোধন করেন দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্পটি উদ্বোধনের মধ্যেই আটকে আছে।

গত বছর ৪ নভেম্বর  থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনদিন ধরে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শহরের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের  নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রাণ সায়ের খালের প্রাণ রক্ষায় জনমত গড়ে  তোলার লক্ষ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে  জেলা প্রশাসক খালটির দিকে নজর দেয়ায় আশার আলো  দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু জানান, প্রাণ না বাঁচলে সাতক্ষীরা শহর বাঁচবে না। শহরের অস্তিত্ব নির্ভর করে এ খালটির উপর। তিনি অবিলম্বে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের কাজ শুরু করার দাবি জানান।

নাগরিক কমিটির নেতা অধ্যাপক আনিসুর রহিম জানান, সবার আগে দরকার জনসচেতনতা। তারপর ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে খালটির ম্যাপ অনুযায়ী নকশা বুঝে  নেয়া। খালটি খননপূর্বক সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাণ সায়ের খাল শহরবাসীর রক্ষাকবচ। সাতক্ষীরা  পৌরসভার  মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি জানান, প্রাণ সায়ের খাল দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল রক্ষার্থে মাইকিং করে ইতোমধ্যে পৌরবাসীকে জানানো হয়েছে, যাতে কেউ কোনো ময়লা-আবর্জনা খালের  ভেতরে না ফেলেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম  মোস্তফা কামাল জানান, জরুরিভাবে প্রাণ সায়ের খাল খননের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পে ইতোমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অবিলম্বে খালের দুইধার পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে।