আসন্ন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঐ অফিসের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভার্চুয়াল সাক্ষাত্কারের জন্য ডাকে দলটি। কিন্তু তার আগেই সেখানে বিএনপি ঢাকা উত্তরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা জড়ো হন। এস এম জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকলে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর আগে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ঢাকা-১৮ নির্বাচনি এলাকার বিএনপি সমর্থিত আট কাউন্সিলর প্রার্থী। আবেদনকারীরা হলেন—এক নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আয়নাল, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোতালেব হোসেন রতন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুর রহমান আরিফ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন, সংরক্ষিত ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সোহেলী পারভীন শিখা এবং সংরক্ষিত ৪৯, ৫০ ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী লুত্ফা খানম চৌধুরী।
তারা লিখিতভাবে বলেন, এস এম জাহাঙ্গীরের এলাকায় বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করেন। এলাকার নির্যাতিত নেতাকর্মীরা তার দ্বারাও নানাভাবে হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকার। এছাড়া তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান জানিয়েছেন, দুপুরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। পরে ঐ অফিসের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
