বিএনপি নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে :কাদের

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। নির্বাচিত সরকারকে হটানোর জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিনা উসকানিতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা তাদের টেস্ট কেস। তাদের নীলনকশা আছে সেটা বাস্তবায়নের জন্যই তারা এ টেস্ট কেস ঘটিয়েছে। তবে যত নাশকতা করুক না কেন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবেই। নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক    কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপি আবারো প্রমাণ করেছে তারা সন্ত্রাসী দল। তাদের দলের সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা হয়েছে। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

পল্টনে বিএনপির অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নেত্রী পুলিশ বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। এমনকি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরতে বলেছেন। এখন আমরা দেখব যে, নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়। আমরা নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরতে বলেছি।’ তিনি বলেন, নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা হলে পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, পাল্টা আক্রমণ করেনি। সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত। নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে আমরা তাকিয়ে আছি। প্রকাশ্য দিবালোকে তারা যা করলো, সে বিষয়ে কমিশন কী করবে, তা আমরা দখতে চাই, জানতে চাই।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বোমা-সন্ত্রাসের দল। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা শেখ হাসিনা সরকারকে উত্খাত করতে চায়। তবে নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করলে বাংলাদেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।’

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী এই হামলায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’ রাজনীতির মাঠ সরগরম করার চক্রান্ত হচ্ছে। যে ষড়যন্ত্র নির্বাচন বানচালের, সেই ষড়যন্ত্রই কি তারা শুরু করে দিলো? আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, তারা সেটাই করল? তারা কি আজ জাতিকে জানান দিলেন যে, ২০০১ সালে, ২০১৪ সালে তারা যেটা করেছে, আবারও তারা সেটাই করবে? তিনি বলেন, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আজ পুলিশের ওপর সাঁড়াশি হামলা করে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া নেতারা স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মিথ্যাচারেই আপনাদের রাজনীতি। আবারও মিথ্যাচার করলেন। পুলিশ কেন সরিয়ে দেবে? সেখানে ভিডিও ফুটেজ আছে। সম্পূর্ণ নীরব দর্শক ছিল পুলিশ, সাংবাদিকরা ছিল। আপনি আবারও মিথ্যাচার করলেন বিএনপির সেই পুরনো নিয়মে। সেই ভাঙা রেকর্ড আজও আপনি বাজাতে গেলেন। এত মিথ্যার বেসাতি কেন করলেন?’

বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থী সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন, মনোনয়ন একজনকেই দেয়া হবে। তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। নৌকার পক্ষে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণরা এবার ভোটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী।’

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, ডা. দীপু মনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একে এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।