অনলাইন কার্যক্রমই একমাত্র ভরসা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৭

 

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে

পিএইচডি ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত তেমন কয়েক জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম কীভাবে চলছে, অবসর সময়ে কীভাবে কাটছে এবং আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ওখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মৌলিক পার্থক্য কী কী—এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন তোফায়েল পাঠান শান্ত

জুনাঈদ আহমেদ

প্রভাষক, রসায়ন বিভাগ, কুয়েট, খুলনা

পিএইচডি ক্যান্ডিডেট, ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

 

বিশ্বব্যাপী করোনার এই মহামারি সময়ে, অন্য সব জায়গার মতো আমাদের একাডেমিক জীবনেও একটা ধাক্কা লেগেছে। প্রথম বেশ কয়েকমাস আমরা টেলিওয়ার্কিং করার চেষ্টা করেছি। যদিও আমার পিএইচডির কাজে রিমোট ওয়ার্ক বা টেলিওয়ার্কিং-এর সুযোগ কম, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ল্যাবে আসা শুরু করি জুন মাস থেকে।

পৃথিবীর ধনী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের থেকে অনেক বেশি আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ওখানে প্রতিনিয়ত ভালো করতে চাওয়ার মানসিকতা এবং মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ছোট একটা উদাহরণ দেই, এখানে প্রতিটা সেমিস্টার শেষ হবার পর অসংখ্য সার্ভে হয়। কোর্সগুলোর বাইরে লাইব্রেরি, ফুড কোর্ট এমনকি সাটল (পরিবহন)-এর সুযোগ-সুবিধার ওপরও সার্ভে হয়।

অবসরে :লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়া হয়। এর বাইরে বাগান করি আমি। অনেকটা সময় ওখানেই চলে যায়। ভার্জিনিয়ার গ্রীষ্মকাল আমার খুবই পছন্দের, কিন্তু এবার করোনার জন্য বের হই না তেমন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুকদের জন্য পরামর্শ :করোনার কারণে দেশের বাইরে পড়তে আসাটা হয়তো একটু কঠিন হলেও বাস্তবতাটা হচ্ছে এই সাময়িক আঁধার অবশ্যই কেটে যাবে। তাই এখনি জিআরই, টোফেল অথবা আইইএলটিসএস প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগামী ফল সেমিস্টারের জন্য আবেদন শুরু করে দিতে হবে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই ফান্ডিংসহ এডমিশন অফার শুরু করে দিয়েছে।

সানজিদা আক্তার

মাস্টার্স শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স

স্যাম-হিউসটন স্ট্যাট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

 

করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম একটু ভিন্নভাবে চলছে। বেশির ভাগ কোর্সই এখন অনলাইনে করতে হচ্ছে। অল্প কিছু কোর্স ও গবেষণা কার্যক্রম পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান মেনে ফেইস-টু-ফেইস পদ্ধতিতে হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস এখন মূল ভরসা।

আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এগিয়ে আছে। এই দেশের শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থা অনেক উন্নত। এখানে একাডেমিক কোর্সের পাশাপাশি গবেষণাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় যুক্ত থাকতে পারে কিন্তু দেশে এটা দেখা যায় না বললেই চলে।

অবসরে :গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের অনেকগুলো কোর্স নিতে হয়। সেই সঙ্গে থাকে হোমওয়ার্ক, এসাইনমেন্ট, মিড-টার্ম ও ল্যাব ওয়ার্ক। সবকিছু মিলিয়ে হাতে অল্প কিছু অবসর সময় থাকে। অবসর সময়টা বাড়ির সামনে বাগান করা আর ভ্রমণ করে পার করি।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুকদের জন্য পরামর্শ :করোনা পরিস্থিতিতে আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থী ভর্তির শর্তসমূহ শিথিল করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন জিআরই পরীক্ষার স্কোর ওয়েইভ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ে ভর্তি ও ফান্ড পাওয়া আরো অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, শিক্ষা ও গবেষণায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

আবদুল্লাহ আল মামুন

পিএইচডি ক্যান্ডিডেট ও টিচিং এসিস্ট্যান্ট,

রসায়ন বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব হিউসটন, যুক্তরাষ্ট্র

 

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ইউনিভার্সিটি অব হিউসটন কয়েক ধরনের লেকচার-ইন্সট্রাকশন ব্যবস্থা রেখেছে। এরমধ্যে একটি হলো ‘হাই-ফ্লেক্স’ সিস্টেম যেখানে সীমিত আকারে নিরাপদ সংখ্যক শিক্ষার্থী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফেইস-টু-সেইস ক্লাস করতে পারে। একই সময়ে ক্লাসটি বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে লাইভ স্ট্রীম করা হয় এবং ক্লাস শেষে লেকচারটির রেকর্ড এবং ম্যাটেরিয়েল অনলাইন সার্ভারে দিয়ে দেওয়া হয়।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ওদের অনেক পার্থক্য। আমেরিকার বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই গবেষণাভিত্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে ফান্ড পায়। সেই ফান্ড দিয়ে চলে গবেষণা কার্যক্রম। অন্যদিকে বাংলাদেশি বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমই গবেষণাভিত্তিক নয়।

অবসরে :সত্যিকার অর্থে অবসর সময় তেমন নেই। টিচিং এসিস্ট্যান্ট হিসেবে অনলাইনে দুইটি কোর্স পড়ানো ও নিজের পিএইচডি রিসার্চ নিয়ে সপ্তাহ কেটে যায়। সপ্তাহান্তে স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে একটু ঘোরাঘুরি, লেইক বা সমুদ্রে মাছ ধরে বেশ ভালো সময় কেটে যায়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুকদের জন্য পরামর্শ : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বা ফান্ড দেয়। এই স্কলারশিগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই নিজের ও শিক্ষা সম্পর্কিত ব্যয় বহন করা যায়।