ক্যাম্পাসে নতুন ভোরের অপেক্ষায়

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

 

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেখতে দেখতে ছয় মাস প্রিয় ক্যাম্পাস থেকে দূরে বাড়িতে শিক্ষার্থীরা। কবে খুলবে প্রিয় ক্যাম্পাস—সে উত্তর জানা নেই কারো এবং সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টির আগে ক্যাম্পাসে না ফেরাটাই উত্তম। তবে ক্যাম্পাসে না ফিরতে পারলেও কয়েক মাস আগের ফেলে আসা মধুর ক্যাম্পাস জীবনের মুহূর্তগুলো মনের কোণে উঁকি দেয় বারবার। এই দীর্ঘ বিরতিতে ক্যাম্পাসের ভালো সময়ের স্মৃতি ও ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন দেশের অন্যতম সেরা তিনটি বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা। লিখেছেন—মাহমুদুর রহমান

মানিক

ফাতেমা আক্তার লিজা

লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথা বিশ্ববিদ্যালয়

পুরান ঢাকার বুকে সবুজ ছায়ায় ঘেরা আমার প্রিয় ক্যাম্পাস। যাকে দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয়। এই তো কিছু দিন আগেও দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত ক্যাম্পাসে। ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে কাটে সুন্দর মুহূর্ত। ক্লাসের ফাঁকে কখনো কাঁঠালতলায় কখনো বা শান্ত চত্বরে বসে বাদাম খেতে খেতে বন্ধুদের সঙ্গে জমপেশ আড্ডা। সন্ধ্যার পর টিএসসির টংয়ে বসে চা খাওয়া, আর গিটারের টুং টাং শব্দে বন্ধুদের সঙ্গে গানে সুর মিলিয়ে হারিয়ে যাওয়া ছিল প্রতিদিনের রুটিন। তবে মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের জন্য প্রিয় ক্যাম্পাসের সবুজ ছায়া গায়ে মাখা হয় না। আশায় বুক বেঁধে আছি দ্রুত আমরা ফিরে যেতে পারব স্বাভাবিক জীবনে, আর প্রিয় ক্যাম্পাসে।

 

তাসনিম হাসান আবির

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, আবাসিক হলের জীবন, ডিপার্টমেন্টের করিডোর, ক্লাসরুম এসব কিছু আগের মতো ফিরে পেতে ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকুতি নেই এমন শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। সাড়ে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে সকাল ৮টার ক্লাস, ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়াতে বসে আড্ডা, টিএসসিতে গানের আসর, কিংবা গ্রন্থাগারে বন্ধুরা মিলে লাইনে দাঁড়িয়ে সিট নেওয়ার প্রতিযোগিতা সবকিছুই এখন শুধু স্মৃতিতে ভাসছে। ক্যাম্পাসে ফেরার আকুতি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকাটা সত্যিই অনেক কষ্টকর। সবসময় হৈ-হুল্লোড়, হাসি, মজার পরিবেশ থেকে হঠাত্ ঘরবন্দি জীবনে কষ্ট হলেও এখন সহজাত প্রবৃত্তিতে মানিয়ে নিয়েছি। তবে আমরা অপেক্ষায় আছি একটি নতুন ভোরের, ঘুম ভাঙবে ক্যাম্পাসে পাখির ডাকে, ক্লাস পরীক্ষা ও আড্ডা গান সবই চলবে আগের মতো।

 

উপমা পাল

লোকপ্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আবেগ বাড়িয়ে টেনে ধরে রাখতে জানে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও হাওয়াটা নিজস্ব, মাটিটা নিজের অস্তিত্ব। তবুও করোনার জন্য প্রিয় ক্যাম্পাসকে রেখে বাড়ি চলে আসতে হয়েছে। মহামারির এই ছুটিতে বিকেলে টারজানের চটপটি-ফুচকা, সন্ধ্যার ট্রান্সপোর্টের চা আর রাতের বটতলার আড্ডা এসব কিছুকে অনুভব করছি প্রচণ্ড। আমারা দ্রুত দুঃসময় কাটিয়ে আবার ফিরে যাব প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে, সৃষ্টিকর্তার কাছে একটিই প্রার্থনা। ভালো থাকুক প্রিয় ক্যাম্পাসের গাছ, পাতা, ফুল, পাখি। ভালো থাকুক ফুটন্ত ও অফুটন্ত গোলাপি পদ্ম, ভালো থাকুক ক্যাম্পাস।