গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমীবাজার থেকে নিখোঁজ কথিত জাদুকর সোহেল রানা ওরফে সুজনের (৩৮) এখনো সন্ধান পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোহেলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামে পুলিশ খোঁজ নিয়েছে। তার বাবা আবুল কাশেম পুলিশকে জানিয়েছেন, সর্বশেষ গত ৩১ জুলাই মোবাইল ফোনে তার ছেলের সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে তার ছেলে নিখোঁজ রয়েছে।
গত ১০ আগস্ট সিলেটে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার ইউনিট (সিটিটিসি) অভিযান চালিয়ে জেএমবির সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জাকে (২৪) গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন ও নওগাঁর সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সিটিটিসিকে জানায়, ঈদুল আজহার আগে তারা গাজীপুরে একজন জাদুকরকে জবাই করে হত্যা করেছে। ঐ জাদুকর ইসলাম ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল।
গতকাল সিটিটিসির উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলেট থেকে গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গাজীপুরে একজন জাদুকরকে জবাই করার তথ্য পেয়েছি। তবে ঐ এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত কোনো পুরুষের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত ১৬ আগস্ট আইএসের নানা তথ্য প্রকাশকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ দুটি ছবি প্রকাশ করে। ছবির শিরোনামে তারা লিখেছিল, ‘বাংলাদেশের রাজধানীর উত্তরে জাদুবিদ্যার চর্চাকারীকে আইএসের হত্যার প্রমাণাদি’। আইএসের প্রকাশিত দুটি ছবির একটিতে গেরুয়া রঙের গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক। তার মাথা ন্যাড়া, গলায় দুটি বড় পুঁতির মালা ও পরিচয়পত্র ধরনের কিছু একটা ঝুলছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ন্যাড়া মাথার গেরুয়া পোশাক পরা এক ব্যক্তি জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা। মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা।
গতকাল ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, গণমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশের পর পুলিশ জানতে পারে যে প্রকাশিত ছবির ঐ ব্যক্তির বাড়ি গফরগাঁওয়ের শিলাসী গ্রামে। তার নাম সোহেল রানা। পিতার নাম আবুল কাশেম। তারা পারিবারিকভাবে মাইজভান্ডারীর অনুসারী। সোহেল রানা গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমীবাজারে তাবিজ-কবজ বিক্রি করেন। কয়েক বছর আগে সোহেল রানা বাড়ি ছাড়েন। আবুল কাশেম পুলিশকে জানিয়েছে, তার ছেলে গত ৩১ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তান্ত্রিক সাধনা করে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার চেষ্টা করছিল।
