জাল এনআইডিতে ব্যাংক ঋণ তুলে আত্মসাত্

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৭

নির্বাচন কমিশনের দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, খিলগাঁও অফিসের সিদ্ধার্থ শংকর সূত্রধর ও গুলশান অফিসের মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে রয়েছেন সুমন পারভেজ, মো. মজিদ ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে আরো তিন ব্যক্তি। এরা সবাই মিলে জাল এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন তুলে আত্মসাত্ করতেন। আর ইসির ঐ দুই কর্মী লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে দিতেন। এ কাজটি তারা করে যাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) লালবাগ বিভাগের একটি টিম শনিবার রাতে তাদের রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোড থেকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ১২টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। ডিবি পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। অভিযুক্ত দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ বলেন, বেশকিছু দিন ধরে তাদের কাছে তথ্য ছিল একটি চক্র জাল এনআইডি তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তা আত্মসাত্ করছে। এ প্রেক্ষাপটে তথ্য নিশ্চিত হয়েই ডিবি অভিযান চালায় এবং এ চক্রের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা যেসব তথ্য দিয়েছে তা হলো—ব্যাংকের লোন নিয়ে কেউ ঋণখেলাপি হলে তাদের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো-সিআইবি রিপোর্ট খারাপ হয়। ফলে পুনরায় তারা আর ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন না। তখন  গ্রেফতারকৃত সুমন ও মজিদ লোন পাশ করে দেবে এ কথা বলে প্রথমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করতেন। শুধু তাই নয়, পরে লোন পাশ হলে লোনের টাকার ১০ শতাংশ হারে ইসির ঐ দুই কর্মীকে দেওয়ার চুক্তি করতেন। পরে টাকার বিনিময়ে নির্বাচন কমিশন অফিসের সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন ইসির কর্মী সিদ্ধার্থ শংকর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলাম।

রাজীব আল মাসুদ বলেন, তদন্তকালে দেখা গেছে, যারা দ্বিতীয় আরেকটি  জাতীয় পরিচয়পত্র করেছেন, তাদের মধ্যে চিকিত্সক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা রয়েছেন। এমন বেশকিছু ডুপলিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান ব্রাঞ্চ থেকে লোন তুলেছেন ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া এ চক্রর সদস্য  মিল্টন নামে একজন নর্থ সাউথ রোডের সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। ইয়াছিন নামে একজন ব্র্যাক প্রগতি সরণি শাখা থেকে তুলেছেন ১০ লাখ টাকা। সালেহ আহমেদ ইউসিবি গুলশান ব্রাঞ্চ থেকে তুলেছেন ১৫ লাখ টাকা। এনআরবি ব্যাংক গুলশান ব্রাঞ্চ থেকে আব্দুল মজিদ নামে একজন লোন তুলেছেন ২০ লাখ টাকা।  এদের গ্রেফতার করা গেলে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

অভিযান সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরির্দশক আমিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন তার স্ত্রীর রোজিনা রহমানের নামে তৈরিকৃত জাল এনআইডি গ্রহণকালে সবাইকে গ্রেফতার করা হয়।

ইসির দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি

টাকার বিনিময়ে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সিদ্ধার্থ শংকর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইডিয়া প্রকল্প। গতকাল রবিবার ইসির উপসচিব নুরুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে তাদের সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটি

এদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রকল্পের এ দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক।