প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমী বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারণে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো দিন দিন এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সমপ্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। যিনি এক হাতে যেমন প্রতিষ্ঠা করেছেন দেশসেরা বহুবিধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তেমনি আরেক হাতে গড়ে তুলেছেন বিশাল কর্মক্ষেত্র— কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি.। যেখানে তিনি নিত্যনতুন ভাবনায় জাহাজ শিল্পের নকশা ও নির্মাণ খাতের উন্নয়নে বহুবিধ প্রতিভাবানদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সমপ্রতি কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই গুণী উদ্যোক্তা। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি.-এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় পর্যটকরা এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামের বিলাসবহুল জাহাজে কক্সবাজার শহর থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করছিলেন। কিন্ত মাঝখানে বাদ সাধে করোনা। করোনার কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ভ্রমণপিপাসুদের অনুরোধে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজটি আবারও চলাচল শুরু করেছে। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এটি চলাচল করছে। জাহাজটি প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয় এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভ্রমণপিপাসুদের আরামদায়ক ভ্রমণে এবার নতুন সংযোজন—এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন ছাড়াও রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। উল্লেখ্য, পাহাড় সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজারের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের গুরুত্ব বরাবরই অপরিসীম। কিন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হতো টেকনাফের এবরোথেবরো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থলপথ। সম্প্রতি এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে র সুযোগ করে দিয়েছে। ভ্রমণের ব্যয়সহ বিস্তারিত জানতে— ০১৭৭১৫৭৫৪৮৯।
