ইউএনওর ওপর হামলাকারী নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলাকারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হয়নি। যদিও তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসল হামলাকারী বরখাস্ত হওয়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রবিউল ইসলাম। এর আগে র্যাব যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি করে বলেছিল, সে-ই আসল হামলাকারী। দুই জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। কিন্তু কে সত্য আর কে মিথ্য বলছে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। রবিউলের পরিবারের দাবি, তাকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিশ্চিত, রবিউলই হামলাকারী। তবে তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না, সেটা জানতে রবিউলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুধু রবিউলের স্বীকারোক্তিই নয়, প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা রবিউলের ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহূত হাতুড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। শিগিগরই আমরা এই মামলার চার্জশিট দেব।’

এর আগে যুবলীগের বহিষ্কৃত সদস্য আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র্যাব। তখন র্যাবের কাছে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে আসাদুল। হামলায় ব্যবহূত হাতুড়ি ও আসাদুলের পোশাকও উদ্ধার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য, আসাদুল হক (৩৫) চুরি করতে ঘরে ঢুকে ইউএনওকে আঘাত করেছিল। তার সহযোগী ছিল নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮) নামে অন্য দুই জন। তাদেরও গ্রেফতার করে র্যাব।

তদন্তের এই পর্যায়ে র্যাব নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে কি না, জানতে চাইলে র্যাব-১৩-এর অধিনায়ক লে. কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু করে। তখন আমরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে হিলি থেকে আসাদুলকে গ্রেফতার করি। তখন সে আমাদের কাছে হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। এখন যেহেতু আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশই মামলার তদন্ত করছে, ফলে তারা যেটা বলবে সেটাই গ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

এদিকে পুলিশ হামলাকারী হিসেবে রবিউলকে শনাক্ত করলেও তার পরিবার ও এলাকাবাসী বলছে, রবিউলকে ফাঁসানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, যে রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ওয়াহিদা খানমের বাড়িতে ঢুকে তার ওপর হামলা হয়, সেই রাতে রবিউল বিরল উপজেলায় তার নিজের বাড়িতেই ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। রবিউল ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে দাবি করে এ ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চেয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।

রবিউলের প্রতিবেশী মাসুদ রানা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ২ সেপ্টেম্বর রাতে রবিউলসহ তারা একসঙ্গে এশার নামাজ পড়েছেন এবং পরদিন সকালে জমিতে কাজও করেছেন। তার কথায় সমর্থন দেন অন্যরাও। রওশন আরা নামে এক প্রতিবেশীও বলেন, তিনি রবিউলকে ২ সেপ্টেম্বর বিকালে শহর থেকে বাড়িতে আসতে এবং পরদিন সকালে ধানখেতে যেতে দেখেছেন। রবিউল এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে, সে কথা গ্রামের অন্যরাও বিশ্বাস করতে চাইছেন না। তাই তারা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করছেন।

এলাকাবাসীর বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘কে তাকে ঐ দিন রাতে বাড়িতে অবস্থান করতে দেখেছে? তার নাম বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করব। রবিউল যে এ ঘটনায় জড়িত এবং ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে ছিলেন, তার সাক্ষ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত।’