আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের সভাস্থলে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতাকর্মী ছুরিকাহত হন বলে জানা গেছে। পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন—ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা আবু কালাম, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, যুবলীগ নেতা সজীব মালিথা, উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে যুবলীগ কর্মী নাজিম উদ্দিন রনি খান, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশাচালক ওলিউর রহমান, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলবার হোসেন ও যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম। এ সময় ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টুও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, পাবনা সদরের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপিসহ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানাতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতারা অপেক্ষায় ছিলেন। অভ্যর্থনায় সামনে থাকাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথার মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এরই রেশ ধরে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌর আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও এ সময় তাদের থামাতে ব্যর্থ হন। পরে সংঘর্ষ অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে রনি খান। তাদের দুই জনকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় ঈশ্বরদী শহরের স্টেশন রোড ও বাজার এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শহরের মূল সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হলে বাজারে আসা শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। আতঙ্কিত লোকজনকে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
পরে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, এ ঘটনা নৌকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নৌকার বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে। ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টু ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঈশ্বরদী থানার ওসি সেখ নাসির উদ্দীন এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে শহরের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত
আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাস্থলে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতাকর্মীর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। যুবলীগের পাবনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক আলী মুর্তজা সনি বিশ্বাস সোমবার বিকালে যুবলীগের উপজেলা ও পৌর কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের জরুরি সভার উদ্ধৃতি দিয়ে সভাপতি আল আহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর কমিটির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
