মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আর শপথ নেওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিধান রেখে আবারও স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন সংশোধন করছে সরকার। একইভাবে সংশোধিত হবে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ) আইন। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সভায় সিটি করপোরেশন (সংশোধন) আইন নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আইনের সংশোধনও করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় আয়ের ক্ষেত্র বাড়ানোসহ বিভিন্ন সুপারিশ দিতে একটি কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশনের প্রধান হবেন একজন প্রতিমন্ত্রী। সচিব ছাড়াও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা এই কমিশনের সদস্য থাকবেন।
দেখা গেছে, বাস্তবে (সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী) কাজ করতে গেলে কিছু অসুবিধা হয়। এখন নিয়ম রয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে রয়েছে যেদিন তারা (মেয়র ও কাউন্সিলর) মিটিং করবে সেই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের সময় থাকবে। দেখা গেছে, চার-পাঁচ মাস আগে যদি নির্বাচন হয়ে যায়, শপথ হলেও তারা দায়িত্ব নিতে পারছেন না এই কন্ট্রাডিকশনের জন্য। মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অনেক দিন তাদের অপেক্ষা করতে হয়। এসব কারণে এ আইনের কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী যেদিন নির্বাচিতদের শপথ হবে এর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ না হলেও এই আইনের দ্বারা দায়িত্ব হস্তান্তরে কোনো বাধা থাকবে না।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালুর পরে স্বাধীনতাত্তোর স্থানীয় সরকারের আইন অন্তত ১০ বার সংশোধন করা হলো। শুধু নির্বাচন কেন্দ্রিক বিষয় নিয়ে সংশোধন হয়েছে চার বার।
মেয়র ও কাউন্সিলরদের ছুটি কমছে : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২০-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ আইনের বলে এখন থেকে মেয়র-কাউন্সিলরদের ছুটি তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, স্ব স্ব মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে অনলাইনে পাঠদান চলছে।
ড্রোন প্রসঙ্গ : এদিকে পাঁচ কেজির বেশি ওজনের ড্রোন ওড়াতে অনুমতি লাগবে, এমন বিধান রেখে ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে তা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে দেবে।
নীতিমালায় ড্রোনের চারটি শ্রেণি করা হয়েছে। বিনোদনের জন্য শ্রেণিতে খেলনা হিসেবে ব্যবহার করবে। এটার ওজন অবশ্যই পাঁচ কেজির নিচে হতে হবে। অবাণিজ্যিক কাজে ‘সরকারি-বেসরকারি সংস্থা’ শ্রেণির ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যবহূত ড্রোনটির ওজন পাঁচ কেজির বেশি হলেও ওড়ানো যাবে, তবে কোনো বাণিজ্যিক ভিউ থাকতে পারবে না। যেমন—বনের সার্ভে করা, গবেষণা বা বই লেখার মতো নিজের কাজের জন্য এ ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। বাণিজ্যিক কাজের জন্য ‘গ’ শ্রেণির ড্রোনের ওজন হবে পাঁচ কেজির ওপর। যেমন কোথাও সার্ভে করবে জমিজমা বা ফসলের ওপরে। ‘ঘ’ শ্রেণির ড্রোন রাষ্ট্রীয় বা সামরিক কাজের জন্য ব্যবহার হবে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গ্রিন, রেড এবং ইয়োলো জোন করে দেওয়া হয়েছে। খেলনা বা বিনোদনের ড্রোন ৫০০ ফুটের বেশি ওপরে যেতে পারবে না। বাকিগুলোকে অনুমতি নিতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী রেড জোন যেমন—এয়ারপোর্ট, ক্যান্টনমেন্টের ভেতর, পদ্মা সেতুতে কাউকে ড্রোন ওড়াতে দেওয়া হবে না। কারণ, কেপিআই এলাকার ভেতরে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
