যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের ময়দানে বাংলাদেশি আমেরিকানরা কোনো ফ্যাক্টর নন। তার পরও ব্লু বা ডেমোক্র্যাট স্টেট খ্যাত নিউ ইয়র্কে এবার বাংলাদেশিদের ভোটের হিসাব পালটে যেতে পারে। এর কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ছে তাদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রে যত বাংলাদেশি রয়েছেন তার ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ বসবাস করেন নিউ ইয়র্কে। এই বাংলাদেশি ভোটারদের ৯৯ ভাগই ডেমোক্রেটিক দলের নিবন্ধিত ভোটার। কিন্তু এবার তাদের ভোটটি পড়তে পারে রিপাবলিকান প্রার্থী, অর্থাত্ ট্রাম্পের ঘরে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গত চার বছরে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো এবং সিটি মেয়র বিল ডি ব্ল্যাজিওর। করোনা মহামারিতে সেই বিরোধ আরো চরমে পৌঁছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নর ও মেয়রের মধ্যেও একপ্রকার বাগ্যুদ্ধ চলে। ত্রিমুখী এই দ্বন্দ্বে নিউ ইয়র্ক স্টেট ও সিটিতে বসবাসরত ইমিগ্র্যান্টদের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস ওঠে। এই প্রভাব থেকে মুক্ত নন বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্টরাও। নির্বাচনে নানান কৌশল ও বহুমুখী সংকটের জাঁতাকলে অধিকাংশ প্রবাসী মনে করেন, ট্রাম্পই আবার ক্ষমতায় আসবেন এবং তারই আবার আসা উচিত। এ কারণে দিন দিন বাংলাদেশিদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ছে।
গত মাসে নিউ ইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএন২৪ প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশির ওপর একটি জরিপ চালায়। সেখানে ট্রাম্প প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এই ফল প্রকাশ করতে গিয়ে টিবিএন২৪ চ্যানেলের পরিচালক ও দ্য ভিউজ অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপক হাবিব রহমান জানান, তারা ভেবেছিলেন নিউ ইয়র্কের অধিকাংশ বাংলাদেশি ডেমোক্রেটিক সমর্থক। সে হিসেবে ট্রাম্প জরিপে খুব কম ভোট পাবেন। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর তাদের সে ধারণা পালটে গেছে। এ অবস্থায় তারা আরো একটি জরিপ চালাবেন এবং আশঙ্কা করছেন, সেই জরিপে ট্রাম্পের অবস্থান আরো সুসংহত হতে পারে।
নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকান ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম গত ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেন। সব সময় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দেন। গত নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে। কিন্তু ইলেক্টোরাল ভোটে জিতেছেন ট্রাম্প। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে যে কৌশলে রিপাবলিকান শিবির প্রচার চালাচ্ছে তাতে ট্রাম্পেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে এবার ভোটটি আর নষ্ট করতে চান না তিনি। তিনি বলেন, যারা বৈধ অভিবাসী তারা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল চান। ট্রাম্পও তাদের জন্য কাজ করতে চান। কিন্তু নিউ ইয়র্কের গভর্নর ও সিটি মেয়র সারাক্ষণ আনডকুমেন্টেড লোকদের জন্য কাজ করছেন। ফলে যারা এ দেশটিকে ভালোবাসেন তারা বঞ্চিত হচ্ছেন নানাভাবে।
ব্রঙ্কসের বাসিন্দা জুয়েল তরফদার সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসে নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প, ক্যুমো ও ব্লাজিওর ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে অভিবাসীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিউ ইয়র্কাররা ফেডারেলের বর্ধিত ৩০০ ডলার বেকার ভাতা পাননি। অথচ অন্য স্টেটের বাসিন্দারা অর্থ পেয়ে গেছেন। গভর্নর ক্যুমোর খামখেয়ালির কারণে নিউ ইয়র্কের অর্থ ছাড় করাতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কের প্রশাসনে পরিবর্তন দরকার।
