পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রথম চালান দেশে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:২৮

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা পরিবেশবান্ধব লো-সালফারযুক্ত প্রায় ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। দেশে এ ধরনের জ্বালানির এটাই প্রথম আমদানি বলে বিপিসি সূত্র জানায়। গতকাল সোমবার সকালে পতেঙ্গার মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডলফিন জেটি-৫ এ ভিড়ে ‘এমটি টিএমএন প্রাইড’ নামের জ্বালানিবাহী জাহাজটি।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিবহন-বিপণন) সৈয়দ মেহেদী হাসান, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ, পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, মেঘনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ-আল-খালেদ, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আনসারী ও বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।

শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সালফার কন্টেন্টযুক্ত ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএসএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্র্রতি চুক্তি হয়। প্রথম পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী ১০টি প্রতিষ্ঠান ০.৫ শতাংশ সালফার কন্টেন্টযুক্ত ফার্নেস অয়েল বহন ও সমুদ্রগামী জাহাজে সরবরাহের অনুমতি পেল। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বন্দরের সব সমুদ্রগামী জাহাজ বাঙ্কারিং সুবিধা পাবে। এর ফলে দেশের সমুদ্রবন্দরে আন্তর্জাতিকমানের বন্দরের সমমানের জ্বালানি তেল সংগ্রহের সুবিধা নিশ্চিত হবে।

সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ০.৫ শতাংশ মাত্রার সালফারসমৃদ্ধ তেল ব্যবহারের জন্য ছয় বছর আগে সদস্য দেশগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছিল; যা বিশ্বব্যাপী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে জাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহে ‘বাঙ্কারিং নীতিমালা’ প্রণয়ন করে; যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিপিসিকে। এ নীতিমালা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয় বিপিসি। ইতিমধ্যে তেল বিপণন, বিক্রয় ও মজুত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে বিপিসি।

প্রথম দফা আমদানির পর দ্বিতীয় দফায় ছয় মাসের জন্য সালফারসমৃদ্ধ তেল সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় ১২ লাখ টন তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি সংস্থা বিপিসি। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টন গ্যাসলিন, ১ লাখ ২০ হাজার টন জেট অয়েল, ২০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ৪৫ হাজার টন মোগ্যাস-৯৫ রোন এবং ৮০ হাজার টন মেরিন অয়েল রয়েছে। এর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিপিসি।