নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুভ লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তাদের নির্বাচনে টিকে থাকা নির্ভর করছে সরকার ও ইসির আচরণের ওপর। যদিও শুরুটা মোটেই শুভ লক্ষণ নয় বলেই তারা মনে করছেন। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকের আগে নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের জন্য পুলিশকে দায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এর মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের পরিস্থিতি করে সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ মুখপাত্র সরকারের উদ্দেশে বলেন, আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি না ঘটানোর আহ্বান জানাই।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ইসির সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘন্টার বৈঠক শেষে বিস্তারিত কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবিও করেছিলাম। তারা বলেছেন, কমিশন বৈঠকে বসে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা করা হয়েছে, পত্র পত্রিকার এমন খবরের বিষয়টি আমরা ইসিকে জানিয়েছি। তারা বলেছে এমনটি হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তাদের জানিয়েছি। তারা সবই শুনেছেন। এখন তারা যদি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করেন, তবেই ?নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।
মির্জা আলমগীর বলেন, গায়েবি মামলা ও হয়রানি বন্ধের বিষয়ে আমরা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়ার দাবি করলে সিইসি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেবেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের যাতে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়টি ইসি নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের খবরাখবর সমপ্রচার নিয়ে ইসির সঙ্গে কথা হয়েছে। ইসি বলেছে, সাংবাদিকেরা নির্বাচন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে না। বৈঠকে এই জোটের ১৪ নেতা অংশ নেন।
