বিকাশে টাকা দিলে মেলে চুরি যাওয়া মিটার!

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৯

 

সাঘাটায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সাঘাটা উপজেলায় একটি চক্র প্রথমে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ লাইনের বাসা বাড়ির মিটার চুরি করে। এ সময় তারা মিটারের জায়গায় একটি মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। পরে বিদ্যুত্ গ্রাহক সেই নম্বরে ফোন করলে বলা হয়, বিকাশে আট থেকে ১০ হাজার টাকা পাঠান, মিটার ফেরত পাবেন। টাকা পাঠালে রাতে ফাঁকা জায়গায় মিটার রেখে যাওয়া হয়। কোথায় রেখে যাবে তাও মুঠোফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয়। নতুন করে পল্লী বিদ্যুত্ থেকে মিটার পেতে গেলে নগদ অর্থ ছাড়াও অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই এই চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে চুরি যাওয়া মিটার ফেরত পেয়েছেন। পুলিশ ও বিদ্যুত্ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ১২টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়। সবগুলো মিটার চুরির পর মিটারের জায়গায় মুঠোফোন নম্বর রেখে যাওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে সব মিটারই উদ্ধার করা হয়।

সাঘাটা উপজেলার গোরেরপাড়া গ্রামের ধান ভাঙানো কলমালিক শাহিন আলম জানান, সম্প্রতি এক রাতে আমার ধান ভাঙানো কলের একটি মিটার চুরি যায়। সকালে উঠে দেখি মিটার নেই। কিন্তু মিটারের জায়গায় একটি মোবাইল নম্বর লেখা। নম্বরটিতে ফোন দেই। তারা মিটার ফেরতের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি আরো জানান, বিষয়টি সাঘাটা থানায় জানানোর পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। পরে প্রতারক চক্রের দেওয়া একটা বিকাশ নম্বরে ৮ হাজার টাকা পাঠাই। টাকা পাবার পর তারা মিটারটি কোথায় পাওয়া যাবে তা জানিয়ে দেয়। পরদিন রাস্তার পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে আমার মিটারটি উদ্ধার হয়। একই উপজেলার বোনারপাড়া গ্রামের ধান ভাঙানো মিলমালিক মোখছেদুর রহমান জানান, আমার কলের মিটার চুরির পর থানায় জিডি করি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে প্রতারক চক্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। তারা টাকা ছাড়া মিটার দিতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৬ হাজার টাকা পাঠাই। পরে তাদের দেওয়া ঠিকানা থেকে বিদ্যুত্ মিটার উদ্ধার করি। তিনি আরো বলেন, গত সাত দিনে আমার এলাকায় পাঁচটি মিটার চুরি হয়েছে। সাঘাটার কামালেরপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জয়নুল আবেদীন জানান, ফোন নম্বর ব্যবহার করে মিটার চুরির পরও পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।  সাঘাটা থানার ওসি বেলাল হোসেন বলেন, মিটার চুরির ব্যাপারে কেবল থানায় একটি জিডি হয়েছে। এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. ছানাউল্লাহ বলেন, মিটার চুরির বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে কারা এ চুরির সঙ্গে জড়িত। একই বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সাঘাটা এলাকায় মিটার চুরির অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া যেহেতু মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে।