পিরোজপুরে পৌর যুবলীগ নেতা কর্তৃক কাউখালীর নারী ইউএনওকে শারীরিক ক্ষতি করাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. খালেদা খাতুন রেখার অফিস কক্ষে ঢুকে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন পিরোজপুর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে ইউএনওর অফিস কক্ষেও হট্টগোলের সৃষ্টি করেন। ইউএনওর কাছে তিনি তার আমেরিকা প্রবাসী পিতার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির তদন্ত প্রতিবেদন দাবি করেন এবং গতকালই প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেন। তখন ইউএনও করোনার কারণসহ নিজের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেন। এজন্য হয়তো প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে। ইউএনও আরো বলেন, তদন্তকাজ চলছে। আপনার  (পৌর যুবলীগ নেতা) বক্তব্য তো আমি সোমবার নিয়েছি। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ঐ যুবলীগ নেতা ইউএনওকে আজই (মঙ্গলবার) তার জবানবন্দি লেখার জন্য বলেন।

ইতিপূর্বে ঐ যুবলীগ নেতার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটা সংশোধন করে পুনরায় ইউএনওকে জবানবন্দি নিতে বলেন। সেই জবানবন্দিতে ঐ যুবলীগ নেতা ও ইউএনওর যুক্ত স্বাক্ষর রয়েছে।

ইউএনও যুবলীগ নেতাকে আরো বলেন, ‘আপনি তো মুক্তিযোদ্ধার আবেদন করেননি। যিনি করেছেন নিয়ম অনুযায়ী তার বক্তব্য প্রয়োজন। আইনে তো আপনার শুনানি নেওয়ার কথা নয়। আবেদন করেছেন আপনার পিতা। তিনি তো দেশে নেই।’ তখন যুবলীগের ঐ নেতা ইউএনওকে বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সঙ্গে আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’

তখন ইউএনও বলেন, ‘রাষ্ট্র তো আপনার বাবাকে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয় নাই।’ তখন ঐ যুবলীগ নেতা উত্তোজিত হয়ে ইউএনওর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং শারীরিক ক্ষতিসাধনসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় ইউএনওর অফিস কক্ষে স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে তমুল হট্টগোল শুরু করেন ঐ নেতা।