সংসদে এসে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুন

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৮

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংসদে এসে বিরোধী দলের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনারা সংখ্যায় যে কয় জনই হন না কেন সংসদে এসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন। মাথা গরম না করে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা রাখুন। আপনাদের বক্তব্য মানুষ গ্রহণ করতেও পারে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা  এখন আর শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রী নন, তিনি জনগণের নেত্রী। তিনি সবার নেতা। তিনি আপামর মেহনতি ১৬ কোটি মানুষের নেতা, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক।’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সবারই আশা প্রধান বিরোধী দল হিসাবে জাতীয় পার্টি (এ) কার্যকর ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তারা তাদের ভূমিকা রাখবে। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় বিশাল ব্যক্তিদের সামনে কিন্তু মাত্র কজন বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন। এই পার্লামেন্টে অনেক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আছেন, আপনারা জানেন। কিন্তু তারপরও কিন্তু একজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্ম হয়েছিল।’ সংসদে কয়টি আসন থাকল তা নয়; কতটা গঠনমূলক বিরোধিতা করা গেল, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশবিরোধী চক্রান্ত এখনো বন্ধ হয়নি বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বাংলা মায়ের কোলে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। ইতিহাসে এই দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। আর জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই বিজয়ের পূর্ণতা পেয়েছিল।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গমাতা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি আনিছুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।