এ বছর বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বাংলাদেশের :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৯

অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এ বছর বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বাংলাদেশের। আশা করছি চলতি অর্থ বছরে আমরা প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ থেকে ৮ দশমিক ৩০ অর্জন করতে পারবো। বিশ্বব্যাংক সাড়ে ৬ ভাগের বেশি আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে না বলত। এবার বিশ্বব্যাংক নিজেরাই বলেছে আমাদের সাত ভাগের ওপরে প্রবৃদ্ধি হবে। এ বছর আমাদের যে অর্জন হবে, এটি হবে সারা বিশ্বের সর্বোচ্চ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি পবিত্র সুরা ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত  কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অর্থমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন।

বিএবি’র সঙ্গে বৈঠক

এদিকে দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে আর এক টাকারও খেলাপি ঋণ বাড়বে না এবং এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে তাও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালসহ বিভিন্ন ব্যাংক মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোন কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। আপনারা কিভাবে বন্ধ করবেন, কিভাবে টেককেয়ার করবেন, কিভাবে ম্যানেজ করবেন আপনাদের ব্যাপার। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলেছি আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাআল্লাহ। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। সবাই প্রায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই করবো, মূল্যায়ন করবো। এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা একটি জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি, মূল যে এলাকা মূল যে চিন্তা সেটি হচ্ছে খেলাপি ঋণ। এটি আপনাদের উত্কণ্ঠা, জাতির উত্কণ্ঠা, আমাদের উত্কণ্ঠা এবং আমার উত্কণ্ঠা, তবে আমার উত্কণ্ঠা কিছুটা কম। কেননা এরই মাঝে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমাণ পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়, সে পরিমাণ খেলাপি ঋণ না। এর হার ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এর চেয়ে অন্যান্য দেশে আরো বেশি। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আরো বেশি। খেলাপি বা ননপারফরমিং লোন কমলে ব্যাংক সুদের হার কমে যাবে, সুতরাং এটা কোনভাবেই বাড়তে দেওয়া হবে না। বৈঠকে যারা এসেছেন তারা নিশ্চিত করেছেন খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না বরং যা আছে সেটিও ধীরে ধীরে কমাবেন। কিভাবে কমাবেন সেটি পরবর্তী মিটিং এ বসে সিদ্ধান্ত নেব। এটিই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। যেহেতু খেলাপি ঋণ হয়েই গেছে। সে বিষয়ে তারাই আমাকে তথ্য দেবেন কি পরিমাণ, কোন ব্যাংকের কতটা খেলাপি ঋণ আছে। কার কাছে কতটা পাওয়া যাবে, এর মধ্যে কতটা আসল কতটা সুদ কোন অবস্থায় আছে। ঋণের বিপরীতে তাদের সমপার্শ্বিক অবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যবসা করে বাংলাদেশে তারা সবাই প্রভাবশালী। পৃথিবীতে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন সবাই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী দুরকম, যারা রাজনীতি করেন তারাও প্রভাবশালী, ব্যবসা বাণিজ্য যারা করেন তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা যদি প্রভাবশালী না হয় তাহলে বিনিয়োগ কিভাবে আসবে। কোথা থেকে কর্মসংস্থান হবে, কিভাবে হবে, দারিদ্র্য কিভাবে কমবে। প্রভাবশালী যারা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করেন তারা অর্থনীতির ৮২ শতাংশ। এদেরকে বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ নিয়ে অর্থনীতি সাজানো সম্ভব নয়।