মানসিক ভারসাম্যহীন নারী চরিত্রে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫৫

সুন্দর অভিনয় দিয়ে ফারজানা ছবি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন অনেক আগেই। অভিনয়ের জায়গা আছে এমন চরিত্রে নিজেকে দেখতে ভালোবাসেন সব সময়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সম্প্রতি অভিনয়ে ফিরেছেন। এরইমধ্যে অভিনয় করলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী চরিত্রে। ওই নাটকের গল্প, তার অভিনয় ভাবনার কথা জানাচ্ছেন

অজেয় চৌধুরী

দয়ারামপুরের আটি গ্রাম। বাজারের কাছে স্কুল মাঠের পাশে শতবর্ষী বটগাছ।  তারই ছায়ায় একটি ছেঁড়া কাঁথা আর একটি মাটির হাড়ি নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন শেফালীর সংসার। বয়স হবে আনুমানিক পঁচিশ কি ছাব্বিশ।  কবে, কখন, কোথা থেকে শেফালী এই গ্রামে এসেছে তা এখন আর কারো জানা নেই। সবাই  তাকে ‘শেফালী পাগলী’ বলেই জানে। বাস্তবতা ও বস্তুগত জীবনের বোধহীন ভিন্ন এক যাপিত জীবনের বাসিন্দা শেফালী। কিন্তু সে যে এক নারীর শরীরের বাহক। অসুস্থ এই সমাজ এবং বিকৃত মানুষের মানসিক বিকৃতি থেকে তার যে রেহাই নেই। চারপাশের অগণিত পুরুষ, নানান বাহানায় শেফালীকে ব্যবহার করে। গ্রাম্যদোকানী থেকে শুরু করে রাস্তার বখাটে, এমনকি রাজনৈতিক ছায়াতলে থাকা গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তি তোরাপ মেম্বার পর্যন্ত—কারো কাছ থেকেই  ছাড় নেই শেফালীর। এবার শেফালীর কঠিন বাস্তবতা আরো ভয়াবহতার দিকে মোড় নেয়। গর্ভবতী হয় শেফালী। মা হওয়ার না বোঝা অনুভূতিতেই অদ্ভুত এক স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠে  সে। জন্ম হয় শিশুটির। কিন্তু সময় আর সময়ের মানুষগুলোর রূপ যে এখন আরো কুিসত হয়ে ওঠে। মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে ভীত হয়ে ওঠে গ্রামের প্রত্যেকটি পুরুষ। এই শিশু বড় হলে যার চেহারার হবে, সমাজে যে তার সম্মানহানি হবে—এই ভাবনায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো পুরুষ হামলা করে শেফালী ও তার শিশু পুত্রের ওপর। শিশুটিকে কোনোভাবেই  বেঁচে থাকতে দেওয়া যাবে না। এক রাতে তোরাপ মেম্বার নিজেও সামিল হয় সেই  হত্যার চেষ্টায়। এসে দেখে শিশুটি নিজেই মারা গেছে, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে  আছে তারই মতো আরো অগণিত পুরুষ মুখ। তখন এই সমাজের মুখপাত্র  হয়ে গ্রামের স্কুল মাস্টার চিত্কার দিয়ে বলে ওঠে—‘যে শিশুর এতো অগণিত পিতা, সে শিশু তো লজ্জায় নিজেই মরে গেছে, কারণ বড় হলে সে কাকে বাবা বলে ডাকবে?’ সন্তান শোকে এক সময় শেফালীও হারিয়ে যায় শূন্যে, অসীমে—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হলো এক খন্ডের নাটক ‘একটি শিশু এবং অগণিত পিতা’। সুহাশিষ সিনহার রচনায় নাটকটি দ্বৈতভাবে পরিচালনা করেছেন আলমগীর সাগর এবং  আতিকুর রহমান  অপু। এতে অভিনয় ফজলুর রহমান বাবু, সুহাশিষ সিনহা, চাঁদনি, শিশু শিল্পী আয়াত সহ আরো অনেকে। নাটকটির শুটিং হয়েছে মানিকগঞ্জের দয়ারামপুর, কাটি গ্রাম ও আটি গ্রামে। শেফালী চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, ‘আমি মূলত আমার অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়েই জীবনকে দেখতে শিখেছি। চরিত্রের বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বদলের খেলায় মেতেছি, অজস্র দেখা-অদেখা জীবনের মাঝে নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা  করেছি। আমার অভিনীত যে ক’টি চরিত্র অভিনয়শিল্প ছবিকে সমৃদ্ধ করেছে ‘শেফালী’ তার মধ্যে অন্যতম। তিনদিন গহীন গ্রামের সেই বটতলায় শেফালী পাগলীর যে জীবনে আমি অবস্থান করেছি, শুটিং শেষ করে ফিরে এসেও যেনো সেই জীবন ও সেই  শিশু পুত্রের মায়া থেকে আমি এখনো বের হতে পারিনি। নাট্যকার, পরিচালক থেকে শুরু করে এই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রত্যেকে অসীম ভালোবাসা ও প্রচেষ্টা নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছে। আশা করছি ভীষণ  ভালো একটি কাজ আমরা দর্শকদের উপহার দিতে পারব।’ নাটকটির  পরিচালকদ্বয় কাজটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখনকার অস্থির বাস্তবতায় তথাকথিত প্রেম  আর হাস্যরসাত্মক গল্পের ভীড়ে এমন একটি ভিন্ন ধারার গল্প নিয়ে কাজ করাটা বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিংও বটে। তবে আমরা সেই  চ্যালেঞ্জটাই নিতে চেয়েছি। একটি ভালো কাজের জন্যে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল বলে কাজটি সুষ্ঠুভাবে আমরা করতে পেরেছি।’