সৈয়দপুর বিমানবন্দর এলাকা
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুর বিমানবন্দর এলাকায় মাইক্রোবাস ও কারচালকদের কাছে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে—ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের বেসরকারি এয়ারলাইনসের বাস ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি স্বজনদের নিয়ে আসা মাইক্রোবাস ও কারে যাত্রীদের উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরে এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোবাস ও কার চালকরা যাত্রীদের প্রতি বেপরোয়া আচরণ করে চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ৯টি ফ্লাইট চলাচল করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের একটি, ইউএস-বাংলার চারটি ও নভোএয়ারের চারটি করে ফ্লাইট চলাচল করে। এ কারণে মাইক্রোবাস ও কার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি চক্র। ঐ চক্রটি চাঁদাবাজি, যাত্রীরা কোন গাড়িতে যাবেন তা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রায় ক্ষেত্রেই যাত্রীদের হতে হচ্ছে নাজেহাল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারামারির মতো ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা গেছে, দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এই তিন জেলা থেকে তাদের ঢাকাগামী যাত্রীদের নিজস্ব মাইক্রোবাস ও বাসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। এজন্য রংপুরের যাত্রীদের জনপ্রতি ২৫০ টাকা, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের যাত্রীদের সাড়ে ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। তবে ঢাকা থেকে বেসরকারি এয়ারলাইনস-এর যে আটটি ফ্লাইটে যাত্রীরা সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসে তাদের কাউকেই গন্তব্যে যাওয়ার সময় এয়ারলাইনসের বাস বা মাইক্রোকবাস ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরের সামনে অপেক্ষমাণ ভাঙাচোরা মাইক্রোবাস, কারে উঠতে বাধ্য করা হয়। যাত্রীরা কেউ প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিয়মিত যাত্রী সাহেদ আহমেদ, ব্যবসায়ী সিদ্দিকুল আলম, শরীফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে এই অবস্থা চলে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ইউএস-বাংলার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অনেকবার বলেছি, কাজ হয় না। একই কথা জানান, নভোএয়ারের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, আমরা নাম বললে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হবো, বিচার কে করবে? নীলফামারী জেলা মাইক্রোবাস জিপ কার পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিমানবন্দরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে না। তিনি সবধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুশান্ত দত্ত জানান, বিমানবন্দরের বাইরের ঘটনা আমার দেখার বিষয় নয়। যেহেতু বিমানবন্দরের প্রধান আমি তাই ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। খুব শিগিগরই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা হবে। সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল এ বিষয়ে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, সড়কে যান চলাচলে কেউ বাধা দিতে পারে না। ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরো বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
