কুড়িগ্রামে ফের বন্যা পরিস্থিতি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে আবারও বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দিনগত রাতে সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে সদর উপজেলাসহ ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বুধবার বিকালে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপত্সীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়তে থাকায় ধরলার অববাহিকার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে আমনখেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে এখন নৌকা বা কলাগাছের ভেলাই ভরসা। পানি বাড়ার কারণে ধরলা অববাহিকার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও উলিপুর উপজেলার প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার শত শত একর আমন ধানখেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বাড়ির চারপাশের গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে চরের বাসিন্দাদের। এ পরিস্থিতিতে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে মোঘলবাসা ইউনিয়ন এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তিস্তার ভাঙন চলছে বজরা-থেতরাইসহ কয়েকটি এলাকায়। এসব এলাকায় গত দুই দিনে শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। অনেকে রাস্তা ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দুই-তিন দিন পর পানি আরো বাড়তে পারে। এরপর পানি কমবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী এ মাসের শেষে একটি বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তা আগের মতো ভয়াবহ হবে না। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদনদীগুলোর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
