স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তার শত কোটি টাকার সম্পদ!

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩

স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মকর্তার দেশ—বিদেশে রয়েছে অত্যাধুনিক একাধিক বাড়ি ও প্লট। এছাড়া নামে—বেনামে রয়েছে শত কোটি টাকার সম্পদ। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে প্রায়ই বিদেশে ভ্রমণ করা এ কর্মকর্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স ও প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন।

তিনি আর কেউ নন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে এমন তথ্য। দুদকের উপ পরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বাধীন টিম সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।  

দুদক সূত্র জানায়, স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন আফজাল হোসেন। নিজেও জড়িয়েছেন নানা দুর্নীতির সঙ্গে। এসব দুর্নীতির সত্যতা খুঁজে পেতে গতকাল দুদকের কার্যালয়ে আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামছুল আলম। শুধু আফজাল নন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ গড়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করছে দুদক।

দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আফজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে (বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬)  এবং রয়েছে একটি প্লট (প্লট নম্বর ৪৯)। এছাড়া ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি (বাড়ি নম্বর ১৬)। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায়ও রয়েছে তাদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে।

দুদক জানায়, আফজালের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। এর আগে এই দুজনের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংস্থাটি। অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশ—বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামছুল আলম। তলবের পেক্ষিতে গতকাল হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী ১৪ জানুয়ারি অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে আফজাল হোসেন গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ২৮ বারেরও বেশি সময় সফর করেছেন। ঠিকমতো অফিস করতেন না এ কর্মকর্তা। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি অফিস না করেও হাজিরা দেখিয়েছেন নিয়মিত। বিভিন্ন দেশ সফরের যে ব্যয় হয়েছে সেই অর্থ তিনি কোথায় পেয়েছেন তাও জানতে চেয়েছে দুদক।