২১ বছরে ৩৪ জনের মৃত্যু
সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
সিলেটের হাওর ও পর্যটন এলাকায় বাড়ছে নৌ-দুর্ঘটনা। গত ২১ মাসে ৩৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। হাওরাঞ্চলে ঘন ঘন নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।
ঘন ঘন নৌ-দুঘটনা এড়াতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রদত্ত নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নৌযানসমূহকে সার্ভে এবং নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। এখন থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট, নিবন্ধন সনদ নৌযানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রতিটি নৌযানে আসন অনুযায়ী লাইফ জ্যাকেট ও ভয়া যাত্রীসাধারণের হাতের নাগালে রাখতে হবে। গত শনিবার জেলা প্রশাসন চলাচলকারী নৌযানসমূহকে দেওয়া নির্দেশনায় আরো বলা হয়, অধিক যাত্রী বহন করা যাবে না, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, সাইরেন, সার্চ লাইট ও সিগন্যাল লাইট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নৌযানে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন করা যাবে না। আবহাওয়া পূর্বাভাস মেনে চলতে হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যনগরের হাওরে মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জনের সলিল সমাধি ঘটলে নৌপথে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সূত্র জানায়, খুব শিগিগরই নৌপথের ট্রলারগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। ঐ দিন মধ্যনগর থেকে ৩৬ জন যাত্রীসহ একটি ট্রলার নেত্রকোনায় যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর ১২ জনসহ ২১ মাসে নৌ-দুঘটনায় মোট ৩৪ জনের সলিল সমাধি ঘটে এ জেলায়। এর মধ্যে আরো অনেক ছোটখাটো দুর্ঘটনার সঠিক হিসাবও নেই। এদিকে সমুদ্রের ন্যায় হাওরাঞ্চলে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় ডুবুরির অভাবে উদ্ধার কাজ বিলম্ব হয়। ডুবুরিকে আসতে হয় সিলেট থেকে। কিন্তু বিলম্বের কারণে লাশ স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
বর্ষায় সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নৌপথে চলাচল বেড়ে যায়। আবার নৌ-দুর্ঘটনায় বহু লোকের প্রাণহানিও ঘটে। টাঙ্গুয়া, হাকালুকির হাওর, বিছানাকান্দি, লালাখাল, রাতারগুল, কাঠালবাড়ী, জাফলংসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নৌকাভ্রমণে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই। এসব স্থানেও বিচ্ছিন্নভাবে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। পর্যটনে আসা মানুষগুলোকেও ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠতে হয়। বর্ষায় হাওরাঞ্চলে নৌকা ছাড়া বিকল্প নেই। বিশাল ঢেউ ও প্রবল স্রোত ঠেলে নৌযান চলে। কিন্তু নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকে না। দুর্ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। তারপর কিছু দিন পর সব আগের মতো। নৌ-দুর্ঘটনাগুলোর অন্যতম কারণ ভাঙা, নড়বড়ে নৌকা, অদক্ষ চালক। প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে মাঝিদের নৌকা চালানো।
বর্ষায় সিলেটের ৩৮টি উপজেলার অন্তত ২৫টির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম জলপথ। কিন্তু জলপথে প্রতি মুহূর্তে ভয়। সুনামগঞ্জ হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, নৌ-চলাচলে সুষুম নীতিমালা দরকার। লাইফ জ্যাকেটসহ পানিতে ভেসে থাকার উপকরণ নৌকায় রাখার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।’
