শিশুদের খিচুড়ি খাওয়ানোর একটি প্রকল্প থেকে ৫০০ কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে দেশ জুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিষয়টি খোলাসা করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফিডিং কার্যক্রম আরো উন্নত করতে খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন শিখতে বিদেশ গিয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনিয়ে এত হইচই করার মতো কিছু নেই। ভারতের কেরালায় স্কুলের বাচ্চাদের জন্য রান্না করা খাবার ব্যবস্থাপনা দেখতে তিনি নিজেও গিয়েছিলেন দাবি করে বলেন, যে কোনো বিষয়েই অভিজ্ঞতা নিতে হয়। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করলে তার ফলও ভালো হয়। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন এখন সাংবাদিকতা পেশায় আসছে। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই। হুট করে একটা লিখে দিলেই মনে করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেল।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য একটি উপজেলা থেকে এক জন করে হলেও ৫০০ জনের বেশি প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, আমরা এই প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠালে তারা বলেন, ৫০০ নয়, দুই টিমে ১০ জন করে ২০ জন বা সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০৪ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু আছে। তবে এখন কেবল বিস্কুট দেওয়া হয়। আগামী জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রাইমারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুদের সপ্তাহে তিন দিন খিচুড়ি ও তিন দিন বিস্কুট দেওয়া হবে। মহানগর ও উপজেলা মিলিয়ে ৫০৯টি এলাকার ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ শিক্ষার্থীকে এই ‘মিড ডে মিল’ দেওয়া হবে। প্রথমে ২৫০টি উপজেলায় এবং পরে পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রস্তাবে যেসব দেশে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে বা হচ্ছে, সেসব দেশে মোট ৫০০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাসফরে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি সমালোচনা করছেন শিক্ষাবিদরা।
