মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে নির্দেশ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫১

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি শুল্ক আদায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হয়নি। আমদানি বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুল্ক আদায় বাড়ার কথা। কিন্তু গত কয়েক মাসের শুল্ক আদায়ের চিত্রে তা প্রতিফলিত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বেড়েছে কিনা। অর্থাত্ অধিক শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে কিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আয়োজিত সভায়ও এ ইস্যুটি তুলেছেন খোদ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ সময় সঠিক রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল আয়কর শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা দুটি সভা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সভায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণ জানতে চান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আমদানি বাড়লেও সেই হারে শুল্ক আদায় বাড়ছে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে এনবিআরের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জানান, উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি আগে যে হারে আমদানি হতো, গত কয়েক মাসে তা কম হারে আমদানি হয়েছে। ওই সময়ে নিম্ন শুল্ক হারের পণ্য বিশেষত সিমেন্টের ক্লিংকার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য কিংবা শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি হয়েছে বেশি। সূত্র জানায়, আলোচনাকালে চেয়ারম্যান প্রশ্ন তোলেন, উচ্চ শুল্কের পণ্যের ব্যবহার কি দেশে কমেছে? স্বল্প শুল্কের পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি ও তা খালাস হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন তুলে তিনি এ বিষয়ে শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।

এনবিআর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। এর বিপরীতে শুল্ক স্টেশনগুলো আদায় করতে পেরেছে ২৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুল্ক আদায় কমেছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশের সামান্য বেশি। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। অবশ্য পূর্বের অর্থবছরের ওই পরিসংখ্যান বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির এত ব্যবধান কিছুটা বিস্ময়েরও জন্ম দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ের চিত্রে খুশি নয় অর্থ মন্ত্রণালয়ও। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রাজস্ব আদায়ে কম প্রবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে।

আমদানি শুল্কের প্রায় ৮ শতাংশই আদায় হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মাধ্যমে। এনবিআর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে শুল্ক আদায় বেড়েছে মাত্র সাত শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ওই অফিসের ২২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা কম শুল্ক আদায় হয়েছে। এছাড়া বেনাপোল শুল্ক স্টেশনেও আদায় বেড়েছে ৮ শতাংশেরও কম।

অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো নয়, উল্টো গত বছরের একই সময়ের চেয়েও শুল্ক আদায় কমে গেছে কয়েকটি মাঠ পর্যায়ের অফিসে। এ তালিকায় রয়েছে পানগাঁও শুল্ক স্টেশন, ঢাকা বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট ও রাজশাহী বন্ড কমিশনারেট।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজস্ব আদায়ে কিছুটা গতি মন্থরতা থাকে-এটি ঠিক। কিন্তু শুল্ক তথা রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি এত কম হওয়ার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। রাজস্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসে অপেক্ষাকৃত যোগ্য কর্মকর্তার পদায়ন না হওয়া এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে বলে মত দেন তিনি।