আলিফের ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্টার হয়ে ওঠার গল্প

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০০

ইমাম হোসেন আলিফ ছোটবেলা থেকেই সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বেড়াতো। উদ্যোক্তা হওয়ার ঝোঁক আসে মাথায় স্কুলের গণ্ডিতে থাকতেই। দেশের জন্য ভালো কিছুর ভাবনা ছিলো সবসময় উদ্যোগের পিছনে। ২০১৮ সালে দুই বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করে 'ওয়েস্টেক'। ২০১৯ সালে বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড এ রিসার্চ এবং ডেভলপমেন্ট বিভাগে রানারআপ হয় ওয়েস্টেকের উদ্যোগ।  

করোনার সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করে আলিফ। করোনা ভাইরাস যখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শুরু করলো, তখন আতংকিত সারাবিশ্বের মতো গোটা বাংলাদেশ। করোনার থেকে মুক্তির জন্য সচেতনতার পাশাপাশি মাস্ক পড়া হয়ে উঠে বাধ্যতামূলক। মাস্ক ব্যবহারে কড়া নির্দেশ থাকার ফলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করে মাস্ক। বাড়তি দামে মাস্ক কেনা সকলের পক্ষে সম্ভব হয়নি সে পরিস্থিতি তে আলিফের মাথায় আসে ভিন্ন পরিকল্পনা। চিন্তা করলো কিভাবে মাস্ক'কে স্বল্পমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। শুরু করলো মাস্ক উৎপাদন নিয়ে পড়াশুনা আর গবেষণা। পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় পরবর্তী পদক্ষেপ। খোঁজ পায় একজন অভিজ্ঞ সহকারীর। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে মাস্ক তৈরির জন্য কিনে একটা মেশিন। ২০ টাকা মূল্যে বিক্রি করে মাস্ক।

অনলাইনে শুরু করে প্রচারণা স্বল্প দামে মাস্ক বিক্রির৷ কথায় রয়েছে ভালো জিনিসের কদর রয়েছে তেমনি প্রথম দিনেই সারা বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার পিসের অর্ডার আসে আলিফের কাছে৷ পণ্য ভালো হওয়াতে প্রতিদিনই বাড়তে থাকে চাহিদা। মাস্ক এর পাশাপাশি অধিক সুরক্ষার প্রয়োজনে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার জন্য নানান সরঞ্জাম আমদানি করতে শুরু করে চায়না থেকে। আলিফ জানায় প্রথমে বিনিয়োগ করার জন্য একটা ভয় কাজ করেছিল তবে কোন চিন্তা ভাবনা না করে একটা ঝুঁকি নিয়ে ফেলে। প্রথমে নানান প্রতিযোগিতা থেকে বিজয়ী হওয়ার পর প্রায় ১লাখ টাকা জমায় আলিফ৷ সেখান থেকে ৫০হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসায়৷ প্রথমে চীন থেকে ৪০ হাজার টাকার চায়না সার্টিফাইড কেএন-৯৫ মাস্ক আনে আলিফ৷ অবাক করা ব্যাপার ২৪ ঘণ্টার আগেই বিক্রি হয়ে যায় সবগুলো পণ্য। সেখান থেকেই সাহস খুঁজে পায় আলিফ।

পরবর্তীতে বাসা থেকে এক লাখ টাকা এবং নিজের পুরষ্কারের ৫০হাজার টাকা দিয়ে পণ্য আনতে শুরু করে। দ্বিতীয় ধাপে পণ্য আনার পর ঘটে আবার অবাক কাণ্ড যে টাকা বিনিয়োগ করে সে টাকা তিনদিনের মধ্যে হাতে চলে আসে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে নানান ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম আনতে থাকে।

আলিফ জানায়, অভাবনীয়ভাবে 'চীনা বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাব' এ নিজের একটা জায়গা তৈরি হলো। শুরু হলো আমার নতুন পথচলা। বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ পেলাম। প্রোডাক্টগুলো হলো— থার্মোমিটার, পালস অক্সিমিটার, ফোগার মেশিন, অটোমেটিক ডিসপেনসার, নেবুলাইজার ইত্যাদি। এবারের ঈদটা ছিল ভিন্ন সকলের থেকে চাঁদরাতে একজনের ফোন এলো, আগামীকাল-ই হাসপাতালের জন্য উনার বাল্ক কোয়ান্টিটির "মেডিকেল এন-৯৫ মাস্ক" লাগবে। আমার চিন্তা চেতনায় তখন হাসপাতালের প্রয়োজনটাই ছিল, ঈদ নয়। ঈদের দিন সকালেই ছুটলাম হাসপাতালের ডাক্তারদের জন্য মাস্ক নিয়ে। ফিরতে ফিরতে প্রায় বিকেল। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টিরও অধিক হাসপাতালে কোভিড ১৯ এর সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছি। পরিবার থেকে সবসময় সহযোগিতা ছিল শুরুতে দেশের জন্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। বাবা-মা যখন বুঝতে পারে ছেলে ভালো কিছু করছে তখন তারা পাশে ছিল সবসময়। আমি কাজ করার সময় সবসময়ই সুরক্ষার দিকে নজর দিয়েছি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি