কফি সংস্কৃতি নিয়ে আইকনিক বারিস্তা আজম আলী 

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৮

আজ ১ অক্টোবর বিশ্ব কফি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে দেশে কফি সংস্কৃতির বিস্তারের পাশাপাশি বারিস্তা পেশার প্রতিও তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বারিস্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

একসময় বাংলাদেশে বারিস্তা পেশাকে সহজভাবে গ্রহণ করা হতো না। দেশে কফির সংস্কৃতি সীমিত থাকায় এ খাতে কাজের সুযোগও ছিল কম। তবে বর্তমানে বিভিন্ন কফিশপ ও রেস্তোরাঁয় কফির চাহিদা বাড়ায় এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে কফি সংস্কৃতির বিস্তারে কাজ করছেন মাল্টি-কুইজিন শেফ আজম আলী। তার পরিচালনায় রয়েছে ‘বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। কফি ও বারিস্তা প্রশিক্ষণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে শেফ আজম আলী বলেন, এই শিল্পে তার ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ বছর ধরে তিনি কফি নিয়ে কাজ করছেন।

শেফ আজম আলী বলেন, “আমি কফি নিয়ে কাজ করার আগে থেকেই শেফ। মূলত মাল্টি-কুইজিন ফুড নিয়ে কাজ করি। তবে কফি নিয়ে করছি ১৫ বছর। বাংলাদেশে আগে কফি সংস্কৃতি এতটা ছিল না। একসময় ক্যাপুচিনো খেতে হলে পাঁচ তারকা হোটেলে যেতে হতো। এখন রাস্তাঘাটের বিভিন্ন জায়গাতেই ক্যাপুচিনো তৈরি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, দেশে কফি সংস্কৃতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এর পাশাপাশি কফির আলাদা বাজারও তৈরি হচ্ছে। ‘বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ’ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে বের হচ্ছেন। গত চার বছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রায় চার হাজার বারিস্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আজম আলী বলেন, দেশের যেসব তরুণ-তরুণী পড়াশোনার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, তারা স্বল্পমেয়াদি কোর্স করে বারিস্তা হিসেবে দক্ষতা অর্জন করে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। বিদেশে অনেক কফিশপ থাকায় বারিস্তা প্রশিক্ষণ থাকলে সেখানে চাকরি পেতে সুবিধা হয়।

তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ আছে। আমি তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারছি এবং তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে কাজ করছে—এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়।”

‘কফি কিং’ প্রসঙ্গে আজম আলী
কফি নিয়ে কাজের কারণে অনেকে শেফ আজম আলীকে ‘কফি কিং’ বলে সম্বোধন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৃদু হেসে তিনি বলেন, তাকে কফি কিং বলার পেছনে কারণ রয়েছে।

আজম আলী বলেন, “শেফরা সাধারণত কফি নিয়ে কাজ করেন না, তারা কিচেন নিয়ে কাজ করেন। আমি যখন কফি নিয়ে শেখা শুরু করি, তখন আমি বাংলাদেশের মোটামুটি নামকরা একজন শেফ। এরপর মালয়েশিয়া ও নেপাল থেকে বারিস্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কফি নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছি সিঙ্গাপুর থেকে।”

তিনি বলেন, তিনি যেসব দেশে গেছেন, সেখান থেকে কফি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করছেন। নেসলে বাংলাদেশের বারিস্তা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।

আজম আলী বলেন, তার নিজের হাতে তৈরি কয়েকটি কফি ব্র্যান্ড রয়েছে। তার তৈরি কফি যারা পান করেছেন, তাদের অনেকেই সেই কফির ভক্ত হয়েছেন। তাদের ভালোবাসা থেকেই অনেকে তাকে ‘কফি কিং’ বলে সম্বোধন করেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি