যে বয়সে হাতে তুলে নেবে বইখাতা, সে বয়সে তার নিতে হচ্ছে সেলাই মেশিন। ছবির মেয়েটির নাম সুমি। গ্রামের ছোট্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হয় সে। সেখানেই সে শেখে সেলাই বিদ্যা। স্কুলের পক্ষ থেকেই শেখানো হয় সেলাই কাজ। ওদের পরিবারে ওর বাবাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এবারের বন্যায় গফরগাঁও উপজেলার পাগলার মাখল গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ গ্রামে বেড়ে ওঠা সুমির ভাগ্যে পড়াশোনা কম থাকলেও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না সে। একারণেই সুমিকে চিন্তা করতে হচ্ছে কীভাবে পরিবারকে সাহায্য করা যায়! একদিকে আর্থিক অবস্থা খারাপ অন্যদিকে বন্যায় ডুবে গেছে সব। কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই সে তার শিক্ষাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবতে থাকে। এরই মধ্যে আমাদের একটি দল পরিদর্শন করতে যায় বন্যাদুর্গত এলাকা। তখন আমাদের দলের ফজর আলী চাচা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেন—তুমি কী করতে চাও? সুমি বলে, আমাকে একটি সেলাই মেশিন দিন।
তখন আমরা উদ্যোগী হয়ে মেয়েটির জন্য সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করি। সহায়তায় এগিয়ে আসেন কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। হয়তো এখন সুমি কাজ করে জীবন চালাতে পারবে। তবে আমি যুব উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন সরকারি দপ্তরের এমন একজনের কাছে আবেদন করেছি—সুমিদের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, যাতে সুমিরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যেতে পারে।
আসুন আমরা সবাই মিলে সুমিদের মতো মেয়েদের স্বপ্নপূরণের উপলক্ষ তৈরি করে দিই। নিজের খুশিটা সবার মধ্যে ভাগাভাগি করে দিই। তবেই তো জীবনের সার্থকতা।
সপ্তম শ্রেণি
গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমি
শ্রীপুর শাখা, মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর
