এ বছর ইজ অব ডুইং বিজনেস প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না বিশ্বব্যাংক। এই প্রতিবেদনের ডাটা বা উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত করা হয়েছে। সদস্যদেশগুলোতে ব্যবসার পরিবেশ কতটা উন্নত সেই বিষয়ে ধারণা পেতে গত ১৭ বছর ধরে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে সংস্থাটি; কিন্তু এবার সংস্থাটির তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য বিগত চার-পাঁচ বছরের প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক এই স্থগিতের কথা জানায়। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০১৭ সাল থেকে পরিবর্তিত পদ্ধতিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে; কিন্তু এখানে তথ্য অন্তর্ভুক্তিতে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিয়মকানুন কেমন তার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর সহজ ব্যবসায় সূচক বা ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া, বিদ্যুত্ সংযোগ, করব্যবস্থা, সম্পত্তি নিবন্ধনসহ ব্যবসা করার পরিবেশ কতটা উন্নত তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকয়েকটি নির্দেশক বা মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা করে থাকে সংস্থাটি। স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থানের তালিকা করা হয়। এই স্কোরের ওপরের দিকের দেশগুলোর ব্যবসা পরিবেশ উন্নত বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে তথ্য সংগ্রহে ২০১৭ সালে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনায় চিলিসহ কয়েকটি দেশ প্রশ্ন তোলে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনায় অনিয়ম হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনের ডাটায় অসংগতি খতিয়ে দেখতে স্বাধীন নিরীক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে চিলি ৩৪তম অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে তা পিছিয়ে ৫৫তম অবস্থানে নেমেছে। এরপর চিলির রাষ্ট্রপতি ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন; কিন্তু এর সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে সবদেশের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে কিন্তু নির্দিস্ট কয়েকটি দেশ এই তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে। গতবছর প্রকাশিত ডুইং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম অবস্থানে ছিল। এই সূচকে উন্নতি করে শীর্ষ ১০০ দেশের তালিকায় উঠে আসার জন্য লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ।
