হঠাত্ ইনজুরিতে স্মিথের বিদায়!

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:০৮

গত বুধবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অনুশীলনে শুধু রানিং করেছিলেন। পরে ফিজিওকে দেখা গেছে স্টিভেন স্মিথের ডানহাতের পরিচর্যা করতে। গতকালও বিসিবি একাডেমি মাঠে দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে শুধু রানিং করেছেন। ব্যাট হাতে নেননি। এর মাঝে উদ্বিগ্ন চেহারায় ফোনে কথা বলতে দেখা গেছে কুমিল্লার অধিনায়ককে।

ডানহাতে একটা ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছেন স্মিথ। যা নিয়েই বিপিএল খেলতে এসেছিলেন তিনি। গত কয়েকদিনে ব্যথার তীব্রতা বেড়েছে। চোটের নাম গলফার্স এলবো। আর এই চোটের কারণেই গতকাল রাতে অস্ট্রেলিয়া ফিরে গেছেন স্মিথ। কুমিল্লার মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তিনি।

আজ রাজশাহী কিংসের বিরুদ্ধে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তাই স্মিথকে আর পাচ্ছে না কুমিল্লা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

চোটটা বেশ পুরাতন। বিপিএলে আসার পর চোটের তীব্রতা বেড়ে যায়। আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গতকালই ফিরে গেছেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে হাতের এমআরআই করবেন তিনি। নিজস্ব ফিজিওকে দেখাবেন। এমআরআই রিপোর্ট ইতিবাচক হলে ফিরে এসে বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে খেলবেন তিনি। দল হিসেবে কুমিল্লাও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। স্মিথের সঙ্গে তারাও একমত হয়েছে। তাই দ্রুত তার ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে ফিরে পাওয়ার আশা আছে বলেই, ঢাকায় রেখে পুরো টুর্নামেন্টের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। ২-১ ম্যাচে না পাওয়া গেলেও সবকিছু ঠিক থাকলে স্মিথকে আবার পাওয়ার আশাও ছাড়ছে না কুমিল্লা।  

অনেক নাটকের পর স্মিথকে পেয়েছিল কুমিল্লা। আসেলা গুনারত্নের বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিল দলটি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও অনুমোদন দিয়েছিল। পরে বাকি দলগুলোর আপত্তিতে বাতিল হয়েছিল তার বিপিএলে অংশগ্রহণের অনুমোদন। আবার সাত দিন পর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলই স্মিথকে বিপিএল খেলার অনুমোদন দিয়েছিল। বিপিএলের অভিষেকে দুই ম্যাচ খেলে ১৬ রান করেছিলেন স্মিথ। প্রথম ম্যাচে ১৬ ও দ্বিতীয় ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছিলেন তিনি।

স্মিথের বিদায়ের সুর টের পেয়েই হয়ত গতকাল অনুশীলন শেষে কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন বলেছেন, দেশীয় ক্রিকেটারদের জ্বলে উঠতে হবে। দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি হার রয়েছে দলটির। জয়ের ধারায় ফিরতে তামিম-ইমরুল-বিজয়দের ব্যাটের পানে চেয়ে আছেন কোচ।

গতকাল সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘বিশেষ করে আমাদের স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের আরেকটু ভালো ভূমিকা পালন করতে হবে, কারণ তারা যেহেতু এখানে খেলে অভ্যস্ত বেশি, তারা রান করতে পারলে আমাদের বাইরের ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক সুবিধা হবে। আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা যদি একটু ভালো খেলে তাহলে আমার মনে হয় যে দল একটি ভালো অবস্থানে যাবে এবং আমি মনে করি যে ব্যাটিং যেহেতু আমাদের লম্বা আছে সুতরাং আমরা যদি শুরুটা ভালো করতে পারি তাহলে মনে হয় বড় রান করতে পারব।’

কুমিল্লার হয়ে দুই ম্যাচে তামিম ৩৯, এনামুল হক বিজয় ৭, ইমরুল কায়েস ২, সাইফউদ্দিন ১২ রান করেছেন। বিদেশিদের মধ্যে শোয়েব মালিক ১৩, এভিন লুইস ১৩ রান করেছেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শহীদ আফ্রিদি। ৬৪ রান করেছেন তিনি।

গত ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ৬৩ রানে অলআউট হয়েছিল কুমিল্লা। আজ রাজশাহীর বিরুদ্ধে তাই ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফিরে পাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্মিথহীন কুমিল্লার জন্য।