পাইনপারা চরে পদ্মার ভাঙন ১৩ বসতবাড়ি বিলীন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০৮

শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপারা চরের চারদিক দিয়ে পদ্মা নদী। গত সোমবার থেকে ঐ চরটিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ১৩টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে চরের ২ হাজার পরিবার ও ফসলি জমি।

মঙ্গলবার বিকালে ভাঙনকবলিত পাইনপারায় আসেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, সেতুর পিয়ার হতে দুই দিকে ৫০০ মিটার জায়গা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের খনন করা চ্যানেলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ও স্প্যান, স্লাব বসানোর কাজে ব্যবহূত ক্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৩৪ নম্বর পিয়ারের কাছে বাঁধ দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এবছর চ্যানেলের প্রবেশ মুখে পদ্মা নদীতে দুই কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্রোত বেড়ে গেছে। এ কারণে কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে ঐ বাঁধ অপসারণও করা সম্ভব নয়। অপসারণ করতে গেলে সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব মাঝিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আমেনা খাতুন জানান, ২০১৪ সালে দুই বিঘা জমি ক্রয় করে পুনরায় চরে বসতি গড়ে তোলেন। সোমবার সেই বসতবাড়িটি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। আমেনা খাতুন বলেন, সারা জীবন পদ্মা নদীই আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল লতিফ ব্যাপারী জানান, তার বাড়ির পাশ দিয়ে বিদ্যুত্ প্রকল্পের চ্যানেল খনন করা হয়েছে। ভাঙনে সোমবার তার বাড়ির একটি অংশ পদ্মায় বিলীন হয়।

ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ ব্যাপারী বলেন, হঠাত্ করে ভাঙনে পাইনপারার ১৩ বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। চরের ২০০০ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ও সেতু বিভাগে আবেদন জমা দিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মা সেতুর কাজের জন্য নির্মাণ করা চ্যানেলে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় জনবসতিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টির ওপর পাউবো নজর রাখছে। সেতু বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।