রাজাপাকসেকে হারিয়ে জিতলেন বিক্রমসিংহ

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৭

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। জয় পেয়েছেন রনিল বিক্রমসিংহ যাকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজাপাকসেকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। গতকাল বুধবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। তবে এখনই রনিল বিক্রমসিংহ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের আদেশ স্থগিত করে পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয়। খবর এনডিটিভির

২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে রাজাপাকসে মাত্র ৭২ এমপির সমর্থন পেয়েছেন। তবে ভোটাভুটির আগেই রাজাপাকসে এবং তার পুত্র নামাল পার্লামেন্ট থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে কয়েক মন্ত্রীও বেরিয়ে যান। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন থাকায় প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে নারাজ ছিলেন বিক্রমসিংহ। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট বাসস্থান থেকেই তাকে বের করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। তবে বিক্রমসিংহই যে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমনটাও নয়। কারণ প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা এখনো রাজাপাকসেকে সমর্থন দিচ্ছেন। গত ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করে নিজের পছন্দের রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর পর থেকেই শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা; কিন্তু এবার রাজাপাকসের বিরুদ্ধেই শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলো। প্রেসিডেন্ট সমর্থন জানানোর পরও রাজাপাকসেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলা হয়। সুপ্রিম কোর্টও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছিল। স্পিকার জয়সুরিয়া রনিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজাপাকসের পক্ষ স্পিকারের বিরুদ্ধে নিয়ম লংঘনের অভিযোগ এনেছে।

রাজাপাকসে ২০০৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার আমলে এলটিটিই জঙ্গিদের দমন করা হয়। তখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া রাজাপাকসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। ২০১৫ সালে রাজাপাকসের ঘনিষ্ঠ সিরিসেনা দল বদল করে জোট বাঁধেন রনিল বিক্রমসিংহের সঙ্গে। রাজাপাকসে ভোটে পরাজিত হন। প্রেসিডেন্ট হন সিরিসেনা। প্রধানমন্ত্রী হন রনিল বিক্রমসিংহ। কিছুদিনের মধ্যেই সরকার পরিচালনা নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। অর্থনৈতিক নানা নীতি নিয়ে দুইজনের মধ্যে মতবিরোধ হচ্ছিল। এদিকে চীন গতকাল আশা প্রকাশ করে বলেছে, প্রতিবেশি রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি।